দেশজুড়ে চলছে তীব্র তাপপ্রবাহ। প্রখর রোদে অতিষ্ঠ জনজীবন। এই গরমে স্বস্তি পেতে ও পানিশূন্যতা মেটাতে কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় বেড়েছে ডাবের বিকিকিনি। তবে চাহিদা বাড়ার সুযোগে ডাবের দামও চলে গেছে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।
কুমিল্লার ঝাউতলায় মুন হাসপাতালের সামনে একটি ডাব ১৫০ থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া চকবাজার, ছাতিপট্টি, রাজগঞ্জ, পুলিশ লাইন, সদর হাসপাতাল, কুচাইতলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, টমছম ব্রিজ ও শাসনগাছাসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ছোট আকারের একটি কচি ডাব কিনতে গুনতে হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা। বড় আকারের ডাব বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৮০ টাকা পর্যন্ত।
ক্রেতাদের অভিযোগ, মাত্র ৩০০ থেকে ৫০০ মিলিলিটার পানি পাওয়া যায় এমন একটি ডাবের জন্যও খুচরা বিক্রেতারা চড়া দাম হাঁকছেন।
খুচরা বিক্রেতারা জানান, মূলত চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী অঞ্চল থেকে কুমিল্লায় ডাব আসে। গত দুই সপ্তাহে পাইকারি বাজারে প্রতি হাজার ডাবের দাম ২ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পরিবহন খরচ।
সদরের হাজী মার্কেটের সামনে ডাব বিক্রি করেন এরশাদ মিয়া। তিনি বলেন, ‘পাইকারিতে দাম বেশি, গাড়িভাড়াও চড়া। দিন শেষে সামান্যই লাভ থাকে। এ ছাড়া ডেঙ্গু, জ্বর ও ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতার কারণে কুমিল্লায় ডাবের চাহিদা অনেক বেড়েছে। জেলা সদরের কয়েকটি হাসপাতালের সামনে ভ্যানগাড়িতে করে ২০০ টাকা পর্যন্ত দামে ডাব বিক্রি হচ্ছে। এখন ডাবের মৌসুম না থাকায় দাম কিছুটা বেশি। ভরা মৌসুমে দাম কমে যাবে।’

তবে বিক্রেতাদের এমন যুক্তিতে সন্তুষ্ট নন ক্রেতারা। হাসপাতালে ভর্তি স্বজনের জন্য ডাব কিনতে আসা আমীর আলী বলেন, ‘একটি মাঝারি আকারের ডাব ১৫০ টাকা চাইছে। ছোট ডাবও ১০০ থেকে ১২০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। তীব্র গরম ও মানুষের প্রয়োজনের সুযোগ নিয়ে দোকানিরা কৃত্রিমভাবে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন।’
মুন হাসপাতালের সামনে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের ভিড় থাকে। তবে চড়া দামের কারণে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। স্থানীয় সচেতন মহল ডাবের বাজারে তদারকি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক পরিচালক মো. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, কুমিল্লায় ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এবং ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসকেরা অনেক সময় ডাবের পানি খাওয়ার পরামর্শ দেন। এ কারণে ডাবের চাহিদা বাড়তে পারে। তবে একটি ডাবের দাম ১২০ থেকে ২০০ টাকা হওয়া, আকারভেদে, অনেক বেশি।
কুমিল্লা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মো. কাউছার মিয়া বলেন, ‘ডাব কাঁচাবাজারের পণ্য। প্রতিদিনই এর দাম পরিবর্তন হয়। কুমিল্লা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে অভিযান পরিচালনা করবে।’
প্রতিনিধি/এসএস




