মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

বিটিএস’র টানে বাড়ি ছেড়ে দেশত্যাগের চেষ্টা ৩ কিশোরীর, যেভাবে শেষরক্ষা

জেলা প্রতিনিধি, পাবনা
প্রকাশিত: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৮ এএম

শেয়ার করুন:

বিটিএস’র টানে বাড়ি ছেড়ে দেশত্যাগের চেষ্টা ৩ কিশোরীর, যেভাবে শেষরক্ষা
প্রতীকী ছবি

পরিবারের অবজ্ঞা, অবহেলা আর দক্ষিণ কোরিয়াভিত্তিক জনপ্রিয় ব্র্যান্ড দল বিটিএস এর প্রভাবে পাবনা সদর উপজেলা একই গ্রামের একই বিদ্যালয়ের তিন কিশোরী সীমান্ত পারি দিয়ে দেশত্যাগের চেষ্টাকালে উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তিন কিশোরীকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর আগে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে সীমান্তবর্তী জেলা কুড়িগ্রাম থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া তিনজনই পাবনা সদর উপজেলার চর আশুতোষপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে একজন অষ্টম শ্রেণির এবং দুজন ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী।

পুলিশ, পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তিন কিশোরীর মধ্যে সিনথিয়ার গায়ের রঙ কালো ও চোখের সমস্যার কারণে পরিবারের তুচ্ছতাচ্ছিল্যের শিকার হতো, যা তাকে হতাশা করে তোলে। একপর্যায়ে সে পরিবার ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার কথা ভাবতে শুরু করে। ওই কিশোরী বিটিএস এর ভক্ত ছিল এবং দেশ ছেড়ে বিদেশে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে। পরে নিজের পরিকল্পনার কথা বিদ্যালয়ের দুই সহপাঠীকে জানালে তারাও তার সঙ্গে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে তিনজনই বিদ্যালয়ে এসে একত্রিত হয়। তবে তারা শ্রেণিকক্ষে না গিয়ে অটোরিকশায় করে পাবনা বাস টার্মিনালে পৌঁছে নাটোরের বাসে ওঠে। নাটোর থেকে রংপুর এবং রংপুর থেকে কুড়িগ্রামে যায় তারা। এ সময় তাদের একজন বাড়িতে বাবার রাখা এক লাখ টাকা সঙ্গে নিয়ে যায়। সন্ধ্যার আগে কুড়িগ্রাম বাস টার্মিনালে পৌঁছে তারা রাতে থাকার জন্য হোটেল বা বাসা খুঁজতে থাকে। একপর্যায়ে তারা একটি অপরিচিত মহল্লায় ঢুকে পড়ে। সেখানে তিন অপরিচিত কিশোরীকে দেখে সন্দেহ হয় কুড়িগ্রাম সদর থানার এসআই তাজের স্ত্রীর। তিনি তাদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি জানতে চান এবং সন্দেহ হওয়ায় তিনজনকেই নিজের বাসায় নিয়ে যান। তাদের খাবারের ব্যবস্থা ও রাতে বিশ্রামের সুযোগ দেন। পরে বিষয়টি এসআই তাজকে জানানো হয়। এসআই তাজ ও তার স্ত্রী কৌশলে তিন কিশোরীর কাছ থেকে তাদের বাবা-মায়ের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেন। পরে পরিবারের সদস্যদের ফোন করে তাদের অবস্থানের কথা জানানো হয় এবং স্থানীয় থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। পরের আইনি প্রক্রিয়া শেষে কুড়িগ্রাম ও পাবনা পুলিশের মাধ্যমে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

 

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, স্কুল থেকে বাড়ি না ফেরায় তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে পাবনা থানায় পৃথক তিনটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিল। তাদের সন্ধানে তৎপরতা শুরু করে পাবনা জেলা পুলিশ। পরে কুড়িগ্রাম সদর থানার এসআই তাজের মাধ্যমে তিন কিশোরীর অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর কুড়িগ্রাম সদর থানা পুলিশ তাদের উদ্ধার করে।

এবিষয়ে গণ্যমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে চাননি তিন কিশোরীর পরিবারের কেউ। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে- এই ঘটনায় তারা বিব্রত। তবে তাদের সন্তানরা খুব দ্রুত উদ্ধার হওয়ায় তারা সন্তুষ্ট।

প্রতিনিধি/টিবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর