সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েও জটিলতায় আটকে যাওয়া মৌলভীবাজারের ৬৭ জন প্রার্থী অবশেষে হাতে পেয়েছেন কাঙ্ক্ষিত নিয়োগপত্র।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের প্রশাসক মিজানুর রহমান মিজান।
এর আগে সোমবার সকালে নিয়োগ নিশ্চিতের খবর ছড়িয়ে পড়তেই ভুক্তভোগীদের পরিবারে বইতে শুরু করেছে আনন্দের বন্যা।
জানা যায়, প্রাথমিকে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মৌলভীবাজার জেলায় মোট ৩৫৭ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। তবে পুলিশ ভেরিফিকেশন ও কাগজপত্র সংক্রান্ত জটিলতায় হঠাৎ করেই ৮৫ জনের নিয়োগ স্থগিত রাখা হয়। এতে চরম হতাশা ও মানসিক যন্ত্রণায় ভেঙে পড়েন বাদ পড়া প্রার্থীরা।

নিয়োগের দাবিতে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন বঞ্চিত শিক্ষকরা। সেখানে উপস্থিত প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীকে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তারা। প্রার্থীদের আকুতি শুনে মন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি আমলে নেন এবং জেলা প্রশাসককে দ্রুত আইনি ও প্রশাসনিক সমাধানের নির্দেশ দেন। মন্ত্রীর নির্দেশের পর তৎপর হয়ে ওঠে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। জটিলতায় থাকা প্রার্থীদের নথিপত্র পুনঃ যাচাই-বাছাই করে দ্রুত সমাধানের পথ খোঁজা হয়। নথিপত্রের সামান্য ত্রুটি, সংশোধন ও পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই শেষে সোমবার যোগ্য ৬৭ জনের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয় এবং তাদের নিয়োগপত্র প্রদান করা হয়।
নিয়োগপত্র পেয়ে আবেগাপ্লুত এক শিক্ষিকা বলেন, গত কয়েকটা দিন মনে হচ্ছিল আমাদের সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে। আজ মনে হচ্ছে নতুন একটা জীবন পেলাম। মন্ত্রী ও জেলা প্রশাসক স্যারের প্রতি আমরা চিরকৃতজ্ঞ।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান জানান, কাগজপত্রের সামান্য ত্রুটি থাকা প্রার্থীদের নথি পুনরায় যাচাই করে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বাকি প্রার্থীদের মধ্যে কয়েকজনের চাকরিতে অনিচ্ছা এবং কিছু জটিলতা থাকায় ৬৭ জনের দ্বিতীয় ধাপের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। নিয়োগপত্রগুলো ডাকযোগে প্রার্থীদের ঠিকানায় পাঠানো হচ্ছে এবং দ্রুতই নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগদান করবেন।
প্রতিনিধি/এসএস




