সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

স্কুলের উন্নয়ন নিয়ে বিরোধ, রাতে লাইব্রেরি ভাঙচুর-নথিপত্র চুরির অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি, শরীয়তপুর
প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১৯ পিএম

শেয়ার করুন:

স্কুলের উন্নয়ন নিয়ে বিরোধ, রাতে লাইব্রেরি ভাঙচুর-নথিপত্র চুরির অভিযোগ

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের সারেং কান্দি মতিউর রহমান সরদার উচ্চ বিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে রাতের আঁধারে ভাঙচুর ও চুরির অভিযোগ উঠেছে। দুর্বৃত্তরা লাইব্রেরির টিনের চালা কেটে ভেতরে ঢুকে বিভিন্ন জিনিসপত্র তছনছ করার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও বিদ্যালয়ের নথিপত্র নিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিদ্যালয়ের ছুটির ঘণ্টাটিও পাওয়া যাচ্ছে না।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে বিলাসপুর ইউনিয়নের সারেং কান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সোমবার সকালে বিদ্যালয়ে এসে শিক্ষক-কর্মচারীরা লাইব্রেরির তালা ও কক্ষের টিন কাটা অবস্থায় দেখতে পান।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, রোববার কার্যক্রম শেষে লাইব্রেরির সবকিছু গুছিয়ে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। সকালে লাইব্রেরি খুলে ভেতরে ঢুকে দেখা যায়, বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর ও তছনছ করা হয়েছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও বিদ্যালয়ের বিভিন্ন নথিপত্র পাওয়া যাচ্ছে না। ছুটির ঘণ্টাটিও নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

f7257d7b-dafa-4923-b038-679bdaef591b

বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক আরিফ হোসাইন বলেন, এর আগেও বিদ্যালয়ে ককটেল বিস্ফোরণ, ভাঙচুর ও তালা ভেঙে চুরির ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি বিদ্যালয়ে একটি নতুন ভবন নির্মাণ হয়েছে। তার দাবি, একটি পক্ষ বিদ্যালয়ের উন্নয়ন চায় না। এ কারণে এর আগেও কয়েকবার ককটেল বিস্ফোরণ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এবারও রাতে কে বা কারা এসে ভাঙচুর করেছে।

আরও পড়ুন

ঋণের আশায় সঞ্চয়, অফিসে গিয়ে তালা, উধাও ‘আলো সংস্থা’

বিদ্যালয়ের দফতরি মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘গতকাল সবকিছু গুছিয়ে লাইব্রেরিতে তালা দিয়ে চলে গিয়েছিলাম। সকালে এসে দেখি সবকিছু ভাঙচুর করা হয়েছে। বিভিন্ন জিনিসপত্র তছনছ করে রাখা হয়েছে। এমনকি বিদ্যালয়ের ছুটির ঘণ্টাটিও নিয়ে গেছে।’

এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হামিদ স্থানীয় বাসিন্দা সুমন খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। তার দাবি, সুমন খান বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কিংবা নতুন ভবন নির্মাণের পক্ষে নন। বিদ্যালয়ের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতেই ভাঙচুরের ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সুমন খান। বিদ্যালয়ে ভাঙচুর বা ক্ষয়ক্ষতির সঙ্গে তার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন তিনি। বিদ্যালয়ের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করা কিংবা ভবন নির্মাণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিরও কোনো উদ্দেশ্য তার নেই বলে জানান।

64a75baa-a027-41d1-b398-b91ce76f96de

এ ঘটনায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জাজিরা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নড়িয়া সার্কেল) মোহাম্মদ মহিউদ্দিন মিরাজ বলেন, ‘ঘটনাটি সম্পর্কে আমরা অবগত রয়েছি। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা হবে। তদন্তের পর তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর