সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

ঋণের আশায় সঞ্চয়, অফিসে গিয়ে তালা, উধাও ‘আলো সংস্থা’

জেলা প্রতিনিধি, শরীয়তপুর
প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪২ পিএম

শেয়ার করুন:

ঋণের আশায় সঞ্চয়, অফিসে গিয়ে তালা, উধাও ‘আলো সংস্থা’

এক থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার আশ্বাসে গ্রাহকদের কাছ থেকে সঞ্চয়সহ বিভিন্ন খাতে টাকা নেওয়ার পর অফিস বন্ধ করে উধাও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার ‘আলো সংস্থা’ নামে একটি বেসরকারি সংস্থার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কনেশ্বর, পূর্ব ডামুড্যা ও ইসলামপুর ইউনিয়নের তিন শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নেওয়ার পর সংস্থাটির কর্মকর্তারা গা-ঢাকা দিয়েছেন।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার উত্তর ডামুড্যার বকুলতলা এলাকায় সংস্থাটির কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন ভুক্তভোগীরা। ঋণের আশায় টাকা জমা দেওয়ার পর নির্ধারিত দিনে অফিসে এসে তালা দেখতে পেয়ে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন তারা।

কনেশ্বর ইউনিয়নের ছাতিয়ানি এলাকার বাসিন্দা কাউসার হোসেন বলেন, চলতি মাসের প্রথম দিকে ‘আলো সংস্থার’ ফিল্ড অফিসার নাজমুল হাসান তাদের এলাকায় যান। তিনি জানান, সংস্থাটি হস্তশিল্পসহ বিভিন্ন কাজের প্রশিক্ষণ দেয়। পাশাপাশি এক থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার কথাও বলা হয়।

928827ab-9357-4ebf-933c-d7ebdcb8c153

পরে এলাকার নারীদের নিয়ে ১০ সদস্যের একটি দল করা হয়। প্রত্যেক সদস্যের কাছ থেকে ভর্তি বাবদ ২৫০ টাকা নেওয়া হয়। কাউসার বলেন, গত বৃহস্পতিবার সংস্থাটির ম্যানেজার হাবিব ও ফিল্ড অফিসার নাজমুল হাসান তাদের জানান, রোববার সঞ্চয় জমা দিলে সোমবার ঋণ দেওয়া হবে।

এরপর রোববার ঋণের আশায় প্রতি লাখে ১০ হাজার টাকা করে জমা দেওয়া হয়। ১০ সদস্যের দলটি মোট ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা সঞ্চয় দেয়। কিন্তু সোমবার ঋণ নিতে অফিসে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে কোনো কর্মকর্তা নেই। অফিসেও তালা ঝুলছে।

কাউসার হোসেন বলেন, ‘ঋণের আশায় টাকা দিয়েছিলাম। সোমবার ঋণ নিতে এসে দেখি অফিসে তালা। সংস্থার কোনো লোকজন নেই।’

পূর্ব ডামুড্যা ইউনিয়নের হাওলাদার কান্দি এলাকার মাহফুজা বেগম বলেন, আলো সংস্থার এক ব্যক্তি মুঠোফোনে যোগাযোগ করে তার ঠিকানা নেন। পরে তার বাড়িতে গিয়ে সংস্থার কার্যক্রম সম্পর্কে জানান। সেলাইসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ এবং এক থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার কথা বললে তিনি এলাকার নারীদের নিয়ে ২০ সদস্যের একটি দল করেন।

মাহফুজা বেগম বলেন, রোববার পরিবারের পক্ষ থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা সঞ্চয় দেওয়া হয়। সোমবার ঋণ দেওয়ার কথা থাকায় অফিসে গিয়ে দেখেন, সেখানে সংস্থার কোনো লোকজন নেই। তাদের টাকা নিয়ে কর্মকর্তারা পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

গ্রাহক মাকসুদা বেগম বলেন, তার কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা সঞ্চয় নেওয়া হয়েছে। সোমবার তাকে দেড় লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ঋণ নিতে এসে অফিসে কাউকে পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, ‘সঞ্চয় নিয়েছে, ঋণ দেওয়ার কথা ছিল। এখন এসে দেখি অফিস বন্ধ। আমাদের টাকা নিয়ে তারা উধাও।’

1000159809

এদিকে সংস্থাটিতে সম্প্রতি চাকরি নেওয়া অফিস সহায়ক উত্তর ডামুড্যা বকুলতলা এলাকার মুক্তা আক্তার বলেন, রোববার বিকেল চারটার দিকে খাদিজা নামের এক কর্মকর্তা তাকে মুঠোফোনে কল করে অফিস বন্ধ করতে বলেন। তার নির্দেশ অনুযায়ী তিনি অফিস বন্ধ করে দেন। সোমবার গ্রাহকেরা দলে দলে অফিসে এলেও সংস্থার কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী আসেননি।

মুক্তা আক্তার বলেন, ‘আমি নতুন চাকরি নিয়েছি। অফিসের লোকজন না আসায় এখন আমিও চাপে আছি।’

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ঋণের প্রলোভন দেখিয়ে প্রথমে গ্রাহকদের নিয়ে দল গঠন করা হয়। পরে সঞ্চয়সহ বিভিন্ন খাতে টাকা নেওয়া হয়। নির্ধারিত দিনে ঋণ নিতে এসে তারা দেখেন, অফিসে তালা ঝুলছে এবং সংস্থার কর্মকর্তারা উধাও।

1000159818

এ বিষয়ে ‘আলো সংস্থার’ কোনো কর্মকর্তা বা দায়িত্বশীল ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রতারণা করে গ্রাহকদের টাকা আত্মসাতের বিষয়ে একজন তাকে মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর