সাভারের আশুলিয়ায় মাদরাসা পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে তাহফিজুল কুরআনিল কারিম ফাজিল মাদরাসায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মাদরাসা কর্তৃপক্ষ স্থানীয় বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে হামলায় সহযোগিতার অভিযোগ তুলেছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মাদরাসাটি জোরপূর্বক দখলে রাখার পাল্টা অভিযোগ করেছেন ওই বিএনপি নেতা।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম। এর আগে গতকাল রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আশুলিয়ার শ্রীপুর এলাকার তাহফিযুল কুরআনিল কারিম ফাজিল (স্নাতক) মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, একদল লোক লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মাদরাসা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ সময় বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ উঠেছে।
মাদরাসার উপপরিচালক (প্রশাসন) ও আশরাফ চ্যারিটেবল ট্রাস্টের সদস্য সৈয়দ সানজিদের দাবি, মাদরাসার সামনে ট্রাস্টের জায়গায় নির্মিত একটি মার্কেট দীর্ঘদিন ধরে ইমাম হাসান নামে এক ব্যক্তি দখলে রেখেছিলেন। সম্প্রতি ট্রাস্টের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হলে এ নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে মাদরাসায় হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সৈয়দ সানজিদের অভিযোগ, হামলার সময় মাদরাসার অফিস কক্ষে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। এ সময় কম্পিউটার, ল্যাপটপ, নগদ প্রায় ৩০ লাখ টাকা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যাওয়া হয়েছে। হামলায় ৫০ থেকে ৬০ জনের মতো লোক অংশ নেয় বলেও দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় ধামসোনা ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকির হোসেন হামলাকারীদের সহযোগিতা করেছেন বলে অভিযোগ তার।
তিনি আরও দাবি করেন, মাদরাসা পরিচালনা নিয়ে বিরোধের বিষয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ২০১৬ সাল থেকে দারুল এহসান ট্রাস্টের কার্যক্রমের বৈধতা নেই এবং বর্তমানে আশরাফ চ্যারিটেবল ট্রাস্টের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। ঘটনার পর ৯৯৯ নম্বরে ফোন করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে বলে জানান তিনি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ধামসোনা ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও ঢাকা জেলা তাঁতী দলের সভাপতি জাকির হোসেন। নিজেকে মাদরাসার পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও দারুল এহসান ট্রাস্টের সদস্য পরিচয় দিয়ে তিনি বলেন, তার ছেলে ওই মাদরাসার শিক্ষার্থী এবং তিনি অভিভাবক সদস্য হিসেবে সংশ্লিষ্ট।

জাকির হোসেনের দাবি, সৈয়দ সানজিদের সঙ্গে তার বিরোধ রয়েছে এবং সানজিদ কর্তৃক তাকে মাদরাসার কার্যক্রমে অংশ নিতে বাধা দেওয়া হয়। তার ভাষ্য, সৈয়দ সানজিদ মাদরাসাটি বেআইনিভাবে নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। এ কারণে স্থানীয় লোকজন একত্রিত হয়ে তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তিনিও সেখানে যান এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশকে সহযোগিতা করেন।
এদিকে, ঘটনার পর মাদরাসা এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আশুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, মাদরাসায় হামলার খবর পাওয়ার পরপরই সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়। বর্তমানে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
ওসি আরও বলেন, মাদরাসা পরিচালনা নিয়ে বিরোধের ঘটনায় উভয় পক্ষেরই পৃথক অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পর আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিনিধি/টিবি




