শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

রাজশাহীতে ‘হুমকির’ পর ছাত্রদলকে শিবিরের বিস্কুট-পানি উপহার

জেলা প্রতিনিধি, রাজশাহী
প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:২১ পিএম

শেয়ার করুন:

রাজশাহীতে ‘হুমকির’ পর ছাত্রদলকে শিবিরের বিস্কুট-পানি উপহার
রাজশাহীতে ছাত্রদল নেতাদের হাতে বিস্কুট-পানি তুলে দিচ্ছেন শিবির নেতারা। ছবি: ঢাকা মেইল

রাজশাহীতে নতুনভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে ছাত্রশিবির। সম্প্রতি এক কর্মসূচিতে সংগঠনটির মহানগর শাখার সভাপতি ইমরান নাজিরের বক্তব্যকে ঘিরে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতারাও তার বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান। ক্ষমা চাইতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয় ছাত্রদল। 

তবে উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই এবার ভিন্ন চিত্র দেখা গেল। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজশাহী পলিটেকনিট ইনস্টিটিউটে ছাত্রদল নেতাদের বিস্কুট ও পানি উপহার দিয়েছে ছাত্রশিবির। 

ঘটনার সূত্রপাত মূলত গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর)। ওইদিন  নগরীর ভদ্রা এলাকায় পদ্মা সরকারি কলেজে একাদশ শ্রেণির ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের অভ্যর্থনা ও ভর্তি সহায়তার জন্য ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির পৃথক ডেস্ক বসায়। ক্যাম্পেইন নিয়ে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। প্রথমে কথা কাটাকাটি ও পরে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন শিবির ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। বেলা ১১টার দিকে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে দুই সংগঠনের নেতারা দাবি করেন।

ছাত্রদল নেতাদের ভাষ্য, শিবিরের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা করেন। এতে ১০ থেকে ১২ জন আহত হয়েছেন। এর প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক মিছিল বের করে ছাত্রদল। মিছিলে নেতৃত্ব দেন রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের সদস্যসচিব এমদাদুল হক লিমন।

ছাত্রশিবিরের নেতাদের ভাষ্য, কলেজে ভর্তি সহায়তা দিতে হেল্প ডেস্ক বসানো হলে ছাত্রদলের নেতারা তাতে বাধা দেন এবং ব্যানার খুলে ফেলেন। পরে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে তাদের ওপর হামলা করা হয়। এ সময় বহিরাগতরাও কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। এতে শিবিরের তিনজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন সংগঠনটির নেতারা।

মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইমরান নাজির বলেন, পদ্মা কলেজে গত তিন দিন ধরে ভর্তি কার্যক্রম চলছে। শাহ মখদুম থানা শিবিরের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের ভর্তি-সংক্রান্ত সহযোগিতার জন্য হেল্প ডেস্ক বসানো হয়েছিল। 

তার অভিযোগ, মঙ্গলবার ছাত্রদলের কিছু বহিরাগত এসে তাদের ওপর হামলা করেন, ব্যানার ছিঁড়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেন। এতে তাদের তিনজন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

ইমরান নাজির বলেন, শিক্ষার অধিকার সবার জন্য সমান হওয়া উচিত। এ ঘটনায় তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। এ ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে সাতটায় নগরীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে বিক্ষোভ মিছিল আয়োজন করে মহানগর ছাত্রশিবির।

মিছিল শেষে সিটি কলেজের সামনে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সমাবেশে বক্তব্য দেন শিবিরের নেতারা। 

এ সময় মহানগর শিবিরের সভাপতি ইমরান নাজির বলেন, ‘আমরা ছাত্রদলের বন্ধুদের বলছি, আমরা ধৈর্যের সীমান্তের একবারে শেষ পর্যায়ে আছি। যদি আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায়, প্রত্যেকটা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের কুত্তার মতো পিটিয়ে রাজশাহী ছাড়া করব।’

ইমরান নাজিরে ওই বক্তব্যের পর পরিস্থিতি আরও ‍উত্তপ্ত হয়ে ‍ওঠে। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের শীর্ষ নেতারা প্রতিবাদ জানিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন। মহানগর ছাত্রদল পুনরায় কর্মসূচিতে রাজপথে নামে এবং ক্ষমা চাওয়ার জন্য ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দুই সংগঠনের নেতাকর্মীরা পরস্পরের বিরুদ্ধে স্ট্যাটাস দিতে থাকেন। নগরীতে তাদের সংঘর্ষের প্রবল আশঙ্কাও ছিল। 

এমন পরিস্থিতির মধ্যেই শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ভিন্ন দৃশ্য দেখা গেল রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে। এদিন ডিপ্লোমা ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং ভর্তি পরীক্ষা ২০২৬-২৭ উপলক্ষে পলিটেকনিকে পৃথক হেল্প ডেস্ক বসায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির। সেখানে দুই সংগঠনের রাজশাহী মহানগরের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত হন। 

ছাত্রদলের মহানগর আহ্বায়ক রাকিন রায়হান রবিন ও যুগ্ম আহবায়ক আবুল কালাম আজাদ তপনসহ অন্য নেতারা ছাত্রদলের ডেস্কে অবস্থান করছিলেন। এ সময় তারা শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে থাকেন। একই সময়ে উপস্থিত হন মহানগর শিবির সভাপতি ইমরান নাজির ও সেক্রেটারি সাখাওয়াত হোসেনসহ অন্য নেতারা। তারাও তাদের সংগঠনের ডেস্কে অবস্থান করেন।

কিছুক্ষণ পর শিবির সভাপতি ইমরান নাজির ও সেক্রেটারি সাখাওয়াত হোসেনসহ অন্য নেতারা ছাত্রদলের ডেস্কের সামনে যান। এ সময় তারা মহানগর ছাত্রদল আহ্বায়ক রাকিন রায়হান রবিন ও যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ তপনসহ অন্য নেতাদের সালাম ও অভিবাদন জানান। ছাত্রদল নেতারাও হাসিমুখে সালামের জবাব দেন এবং পরস্পর করমর্দন করেন। এ সময় একটি কার্টুনে বিস্কুট ও এক র‌্যাপ পানির বোতল ছাত্রদল নেতাদের ডেস্কের ওপর রাখেন মহানগর শিবির সভাপতি ইমরান নাজির। একটি বোতল ছাত্রদল আহ্বায়ক রবিনের হাতেও তুলে দেন তিনি। রবিন বোতলটি হাসিমুখে গ্রহণ করেন। এরপর শিবির নেতাকর্মীরা সেখান থেকে চলে যান। 

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তাপের পর শনিবার পুরোপুরি বিপরীত এমন চিত্র দেখে শিক্ষার্থীরা স্বস্তি প্রকাশ করেন।

অবশ্য এরপর শিবিরের নেতারা নিজেদের আইডি ও পেজে ঘটনাটির ভিডিও ছবি ফেসবুকে পোস্ট করতে থাকেন। শিবির পরিচালিত একটি পেজেও পোস্ট করা হয়। ক্যাপশনে লেখা হয়, ‘ছাত্রশিবির সবসময় সহাবস্থানের রাজনীতিতে বিশ্বাসী!’

এক ঘণ্টা পর সেই পেজের ওই ভিডিও শেয়ার করে নিজের প্রতিক্রিয়া জানান রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. খালিদ বিন ওয়ালিদ আবির। তিনি লেখেন, ‘ছাত্রশিবিরের নুরানি চেহারা, মিষ্টি কথা আর ভদ্র ব্যবহারের আড়ালে থাকা উদ্দেশ্য বুঝতে ভুল করবেন না। প্রয়োজন ও স্বার্থের জায়গায় অবস্থান বদলানো এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী ভিন্ন রূপ ধারণ করা তাদের রাজনৈতিক কৌশলের অংশ।’

প্রতিনিধি/এলএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর