শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

পশু জবাইয়ের নির্ধারিত স্থান নেই, ভোগান্তিতে মাংস ব্যবসায়ীরা

জেলা প্রতিনিধি, শেরপুর
প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩৭ পিএম

শেয়ার করুন:

পশু জবাইয়ের নির্ধারিত স্থান নেই, ভোগান্তিতে মাংস ব্যবসায়ীরা
মাংস বিক্রির জন্য নির্দিষ্ট জায়গা থাকলেও সেখানে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা না থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে মাংস ব্যবসায়ীদের। ছবি: ঢাকা মেইল

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলা সদর বাজারে মাংস বিক্রির জন্য নির্দিষ্ট জায়গা থাকলেও সেখানে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা না থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে মাংস ব্যবসায়ীদের। বাজার থেকে জবাইখানা দূরে হওয়ায় অনেকটা বাধ্য হয়েই ব্যবসায়ীরা মাংস বিক্রির স্থানেই পশু জবাই করছেন। 

প্রতিদিন গরু, মহিষসহ বিভিন্ন পশু জবাই করছে ব্যবসায়ীরা। কিন্তু নির্ধারিত জবাইখানাটি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রয়েছে, মাংস বাজার থেকে অনেক দূরে এবং যাতায়াতের ব্যবস্থা না থাকায় সেখানে পশু জবাই করে মাংস আনা কঠিন হয়ে পড়েছে ব্যবসায়ীদের জন্য।

স্থানীয়দের অভিযোগ পশুর রক্ত অপসারণ করা হলেও ড্রেন সরু হওয়ায় পরিষ্কার করার পরেও মাঝে মধ্যেই দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে পুরো বাজারে সৃষ্টি হচ্ছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। এতে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়কেই পড়তে হচ্ছে ভোগান্তিতে। 

পাশাপাশি বৃষ্টির সময় পানি জমে যাওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে মাংস নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি ক্রেতাদের মধ্যেও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

মাংস বাজারে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত না হওয়ায় ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। দ্রুত বাজারটির কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, গরু হাটের পুরোনো জবাই খানাটিতে পর্যাপ্ত জায়গা থাকার পরও সেটাকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করায় এখন সেটি প্রস্রাবখানায় পরিণত হয়েছে।

আর নতুন করে জবাইখানাটি মাংস বাজার থেকে অনেক দূরে এবং জবাইয়ের ঘরটি একেবারে ছোট করে তৈরি করেছে। এছাড়াও সেখানে যাতায়াতের জন্য উপযুক্ত রাস্তাসহ পশু জবাইয়ের পর্যাপ্ত পরিবেশও নেই বলে অভিযোগ তুলছে মাংস ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি জবাইখানাটি যদি মাংস বাজারে অথবা গরু হাটের আগের জায়গাতে করা হয়, তাহলে ক্রেতাদের মাংস নিয়ে সন্দেহ থাকবে না এবং ব্যবসায়ীদেরও পশু জবাই করে মাংস নিয়ে আসা খুবই সহজ হবে।

উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বলেন, প্রাণী সম্পদ অফিস থেকে নিয়মিত মাংস বাজার তদারকি করা হচ্ছে। তবে মাংস বিক্রেতাদের জবাইখানা, মাংস বাজারের চালা, পানির ব্যবস্থাসহ বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানাবেন বলে প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে মাংস বিক্রি নিশ্চিত করতে জবাইখানা ও মাংস বাজারের অবকাঠামো দ্রুত উন্নয়নের দাবি ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের। এখন দেখার বিষয়, দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কতটা কার্যকর উদ্যোগ নেয়।

প্রতিনিধি/এমআই

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর