বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

জাল দলিলে নামজারি, জমি বিক্রি করতে এসে ধরা

জেলা প্রতিনিধি, শরীয়তপুর
প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪০ এএম

শেয়ার করুন:

জাল দলিলে নামজারি, জমি বিক্রি করতে এসে ধরা
জাল দলিলে নামজারি, জমি বিক্রি করতে এসে ধরা

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় জাল দলিলের মাধ্যমে নামজারি ও খাজনা পরিশোধ করে জমি বিক্রির চেষ্টার অভিযোগে এক নারীসহ তিনজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নড়িয়া উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

আটকরা হলেন— ভেদরগঞ্জ উপজেলার ইকরকান্দি গ্রামের ইয়াসমিন বেগম, তার ভাই ইকরাম সরদার ও সুরুজ সরদার।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভুয়া দলিলের মাধ্যমে নামজারি সম্পন্ন করে খাজনাও পরিশোধ করা হয়েছিল। এরপর ওই জমি বিক্রির জন্য নড়িয়া উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে আসেন ইয়াসমিন বেগম ও তার দুই সহযোগী। জমিটি কেনার জন্য নড়িয়ার রতন সরদার তাদের অগ্রিম টাকা দেন। তার দাবি, টাকা দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস ও দলিল লেখকদের মাধ্যমে জমির কাগজপত্র যাচাই করা হয়। তখন তাকে কাগজপত্র সঠিক বলে জানানো হয়। এরপর তিনি ইয়াসমিন বেগমকে ব্যাংকের মাধ্যমে ২২ লাখ ৬০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। বুধবার জমিটি রেজিস্ট্রি করতে সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে গেলে কাগজপত্র পুনরায় যাচাই করা হয়। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দেখতে পান, যে দলিলের ভিত্তিতে জমিটির নামজারি করা হয়েছে, সেটি জাল। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর ইয়াসমিন বেগম ও তার দুই সহযোগীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

ভুক্তভোগী রতন সরদার বলেন, আমি বুঝতে পারিনি যে তারা প্রতারণা করছে। ভেন্ডার ও দলিল-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে কাগজপত্র দেখানোর পর তারা সবকিছু ঠিক আছে বলে জানান। তাদের কথায় বিশ্বাস করে আমি ব্যাংকের মাধ্যমে ইয়াসমিনকে ২২ লাখ ৬০ হাজার টাকা দিই। পরে রেজিস্ট্রি করতে এসে জানতে পারি, নামজারির ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত দলিলটি জাল।

তিনি আরও বলেন, সাব-রেজিস্ট্রার ও অফিসের স্টাফদের সহযোগিতায় ইয়াসমিন ও তার দুই সহযোগীকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে ইয়াসমিনসহ জালিয়াতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

নড়িয়া উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার তাহমিদ তিশাদ নিলয় বলেন, জাল দলিলের মাধ্যমে জমি বিক্রি করতে আসা ইয়াসমিনসহ তার সহযোগীদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।

নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, ভুক্তভোগী রতন সরদার থানায় এসে মামলা করার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। ইয়াসমিন ও তার দুই সহযোগীকে আটক করা হয়েছে। জাল দলিলের মাধ্যমে জমি বিক্রির সঙ্গে জড়িত পুরো চক্রকে আইনের আওতায় আনা হবে।

প্রতিনিধি/টিবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর