বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ঢাকা

মদনে ভুয়া কাগজে জমি নিবন্ধনের চেষ্টা, দলিল লেখককে শোকজ

জেলা প্রতিনিধি, নেত্রকোনা
প্রকাশিত: ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৩:১৯ পিএম

শেয়ার করুন:

মদনে ভুয়া কাগজে জমি নিবন্ধনের চেষ্টা, দলিল লেখককে শোকজ
দলিল লেখক মো. রহিছ মিয়া।

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে জমি নিবন্ধনের চেষ্টার অভিযোগে মো. রহিছ মিয়া নামে এক দলিল লেখককে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাকে দলিল-সংক্রান্ত সব ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মদন উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত সাব-রেজিস্ট্রার মো. জাহিদ হাসান বুধবার (২৯ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গত ২৮ জুন রহিছ মিয়াকে শোকজ করা হলেও বিষয়টি সম্প্রতি জানাজানি হয়েছে।

অভিযুক্ত রহিছ মিয়া মদন পৌরশহরের বাসিন্দা। তার দলিল লেখক সনদ নম্বর ৪৪৭।

সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ জুন রহিছ মিয়া একটি জমির দলিল নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করেন। যাচাই-বাছাইয়ের সময় নামজারি ও বায়না দলিলের নকল পর্যালোচনায় দেখা যায়, জমা দেওয়া বায়না দলিলের নকলটি জাল। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উৎস দলিলও ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়। পরে রহিছ মিয়া ও সংশ্লিষ্ট পক্ষকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও তারা সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। এ ঘটনায় ২৮ জুন তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয় এবং সাত কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়।

নোটিশে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দলিলের খসড়া (মুসাবিদা) প্রস্তুত, লিখন, নিবন্ধনে সহায়তা, দলিলের নকল বা তথ্য সংগ্রহ এবং মূল দলিল সরবরাহসহ দলিল-সংক্রান্ত সব ধরনের কার্যক্রম থেকে তাকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন, নোটিশ পাওয়ার পরও রহিছ মিয়া সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সামনে তার চেম্বারে বসে সহকারীদের মাধ্যমে আগের মতোই দলিল-সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রহিছ মিয়া বলেন, জমির মালিকপক্ষ যে কাগজপত্র তাকে দিয়েছে, সেগুলোর ভিত্তিতেই তিনি দলিল প্রস্তুত করেছিলেন। কাগজপত্র জাল কি না, তা তার জানার সুযোগ ছিল না। তিনি আরও বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শোকজের জবাব দেওয়া হয়েছে এবং নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি দলিল-সংক্রান্ত কার্যক্রম থেকে বিরত রয়েছেন।

অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত সাব-রেজিস্ট্রার মো. জাহিদ হাসান বলেন, দলিল লেখক রহিছ মিয়া নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন। কাগজপত্রে সন্দেহ হওয়ায় জেলা মহাফেজখানায় যাচাই করে দেখা যায়, উৎস দলিলটি জাল। একই সঙ্গে বায়না দলিল ও নামজারির কাগজপত্রও ভুয়া পাওয়া যায়। দলিল প্রস্তুতের আগে এসব কাগজপত্র যাচাই করা দলিল লেখকের দায়িত্ব। তাই তাকে শোকজ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, রহিছ মিয়া শোকজের জবাব দিয়েছেন। সেটি জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে পাঠানো হয়েছে। এখনো এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। জেলা রেজিস্ট্রার সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত রহিছ মিয়াকে দলিল-সংক্রান্ত সব ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর