ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে জিম্মি করে মাকে ‘দলবেঁধে ধর্ষণের’ অভিযোগে করা মামলায় প্রধান আসামির বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের পর আরও ৩ আসামির বাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার চরআলগী ইউনিয়নের চর কালিবাড়ি এলাকায় প্রধান আসামি শরীফের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়।
পরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে একই মামলার আসামি- ফাহিম, রাজিব ও এনামুলের বাড়িতেও আগুন দেওয়া হয়।
গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান শেখ এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, সকালে এলাকাবাসী মামলার প্রধান আসামি শরীফের বাড়িতে গিয়ে বসতঘরের টিনের বেড়া ও চাল ভাঙচুর করেন। তবে হামলার আগেই শরীফের পরিবারের সদস্যরা নিরাপদ স্থানে সরে যান।
পরে সন্ধ্যায় মামলার এজাহারভুক্ত আসামি চর কালিবাড়ি এলাকার ফাহিম ও রাজিব এবং আকন্দপাড়া এলাকার এনামুলের বাড়িতে আগুন দেয় স্থানীয়রা।
ওসি জানান, আগুনে চারটি ঘর পুড়ে গেছে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
পরে পুলিশ স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানান ওসি।
তিনি বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে অন্য আসামিদের অবস্থান সম্পর্কে পুলিশকে তথ্য দিতে এলাকাবাসীর প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে পাঁচ যুবক ৩৮ বছর বয়সী ওই নারীর বাড়িতে গিয়ে পানি চায়। একপর্যায়ে তারা অস্ত্র দেখিয়ে ওই নারী ও তার ছেলেকে জিম্মি করে।
পরে অভিযুক্তরা নগদ ৫ লাখ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে ওই নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ এবং ঘটনার ভিডিও ধারণ করে চলে যায়।
পরে তাদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে খবর দেয়।
পরদিন ওই নারী গফরগাঁও থানায় মামলা করেন। মামলায় শরীফ (২৩), আরিফ (২১), ফাহিম (২২), রাজিব (২৩) ও এনামুলের (২২) নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার পর শনিবার বিকেলে গফরগাঁও প্রেসক্লাবের সামনে স্থানীয়রা মানববন্ধন করেন। এতে অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানানো হয়।
পরিবারটির অভিযোগ, তাদের কাছে আরও দুই লাখ টাকা দাবি করে অভিযুক্তরা। বিষয়টি কাউকে জানালে ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় রাজিবকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানান ওসি। তিনি বলেন, অন্য আসামিদের গ্রেফতারেও অভিযান চলছে।
প্রতিনিধি/এলএ




