নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মূল ফটক ও চত্বরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে চরম অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। এদিকে সরকারিভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত নিরাপত্তাকর্মীদের অনেকেই দায়িত্ব পালন করছেন জরুরি বিভাগ ও আউটডোরে। শুধু নিরাপত্তা কর্মী নয় এ জায়গায় রয়েছে পরিছন্নতাকর্মী ও বাবুর্চি।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কাগজে-কলমে ৮ জন নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগ থাকলেও হাসপাতালের নিরাপত্তার দায়িত্বে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র।
যারা এই পদে নিয়োগ পেয়েছেন তারা দায়িত্ব পালন না করে দায়িত্ব পালন করছেন অন্যরা। দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন, সেলিম, শাকিল ও মনি (শ্রবণ প্রতিবন্ধী)। তারা প্রতিদিন দায়িত্ব ভাগাভাগি করে ২৪ ঘন্টা হাসপাতালের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, হাসপাতালের সরকারি নথিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ৮ জন স্থায়ী সিকিউরিটি গার্ড কর্মরত রয়েছেন। তবে এই নিরাপত্তা রক্ষীদের সিংহভাগই হাসপাতালের মূল চত্বর বা গেটের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন না করে, নিয়মের বাইরে গিয়ে ইনডোরের (ভেতরের), ওয়ার্ডে ভিন্ন প্রশাসনিক বা অন্যান্য সুবিধাজনক কাজে দায়িত্ব পালন করছেন।
এ দিকে স্থায়ী নিয়োগপ্রাপ্তরা তাদের মূল দায়িত্ব ফাঁকি দেওয়ায় হাসপাতালের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিকল্প পথ বেছে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে হাসপাতালের বাইরের নিরাপত্তা তদারকির জন্য এজেন্সির মাধ্যমে নতুন করে লোকবল নিয়োগ দিতে হচ্ছে। সচেতন মহল মনে করছেন, যেখানে সরকারি বেতনভুক্ত স্থায়ী কর্মচারী রয়েছে, সেখানে তাদের সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করিয়ে অন্য জায়গায় দায়িত্ব পালনের কারণে স্পষ্টতই প্রশাসনিক ব্যর্থতার পরিচয় উঠে আসছে।
স্থানীয় আবদুল আল মামুন নামে এক চিকিৎসা নিতে আসা ব্যক্তি জানান, আমি দীর্ঘদিন ধরে এখানে চিকিৎসা নিতে আসি কিন্তু সরকারিভাবে যে নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগ রয়েছে তা আমরা জানি না। আমি মনে করছি যে দুজনকে দেখা যায় তারা সরকারিভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত।
নিরাপত্তাকর্মী পদে নিয়োগ পাওয়া মো. জহিরের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, আমরা আউটডোর বা ইনডোরে কাজ করলেও মূলত আমরা নিজেদের মধ্যে টাকা তুলে তিনজনকে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছি তারা আমাদের পরিবর্তে নিরাপত্তা দায়িত্ব পালন করছেন।
মাহবুবুর রহমান নামে আরেক জনের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, নিরাপত্তা পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হলেও আমি মূলত আউটডোরে একজন ডাক্তারের বডিগার্ড হিসেবে কাজ করছি।
হাসপাতালের নথিপত্র অনুযায়ী, বর্তমানে এই শাখায় কর্মরত ৮ জন কর্মচারীর মধ্যে মো. মোহন নামে একজন মারা যান। অন্য ৭ জন হলেন মো. সালাহ উদ্দিন , কামরুজ্জামান,ল বেলাল হোসেন, মো. মাহাবুবুর রহমান, মো. করিম, মো. জহির আহম্মেদ এবং মো. আবদুল্লাহ আল মামুন যারা প্রত্যেকে যিনি বর্তমানে আউটডোর ও ওয়ার্ডে ওয়াড বয় হিসেবে ডাক্তারদের সাথে কাজ করেন।
নোয়াখালী ২৫০ এর সয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আরএমও রাজীব আহমদ চৌধুরীর সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, আসলে এখানে নিরাপত্তাকর্মী ওইভাবে নেই আমরা মূলত বাইরের লোক দিয়ে এখানে নিয়োগ রেখেছি এবং সরকারি ডাক্তার বিভিন্ন ব্যক্তি থেকে চাঁদা তুলে তাদেরকে বেতন দিয়ে থাকি।
এ বিষয়েই নোয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন ও ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে কথা বললে তিনি কিছুই জানেন না বলে লাইন কেটে দেন।
শুধু নিরাপত্তা কর্মী নয় এ যায়গায় রয়েছে পরিছন্নতাকর্মী ও বাবুর্চি যাদের কেউ চক্ষু , ইমার্জেন্সি, ওয়ার্ড মাস্টার রুম, সার্জারি বিভাগে দায়িত্ব পালন করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, এসব পদে রাজনৈতিক ব্যক্তিদেরকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এতে তারা এই পদে কাজ করতে আগ্রহী না। ফলে তারা নিজেদের সুবিধামত করে ইনডোর বা আউটডোরে বিভিন্ন ওয়ার্ডে কাজ করছেন।
সাধারণ মানুষ মনে করেন, নিরাপত্তা কর্মীদের এই অভ্যন্তরীণ ডিউটি বাণিজ্যের কারণে হাসপাতালে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা প্রায়ই চুরির ঘটনা ও দালালের দৌরাত্ম্যের শিকার হচ্ছেন।
সাধারণ মানুষের দাবি, সরকারি বেতনভুক্ত এই কর্মচারীদের ইনডোর থেকে বের করে তাদের মূল দায়িত্ব অর্থাৎ হাসপাতালের চত্বর ও গেটের নিরাপত্তায় নিয়োজিত করা হোক। একই সঙ্গে আউটসোর্সিংয়ের নামে সরকারি অর্থের অপচয় বন্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয়রা।
প্রতিনিধি/এআরএম




