মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

ফতুল্লায় দুই বাসে আগুন, আ.লীগের ৫৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

জেলা প্রতিনিধি, নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২৮ এএম

শেয়ার করুন:

ফতুল্লায় দুই বাসে আগুন, আ.লীগের ৫৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা
নারায়ণগঞ্জে রাস্তার পাশে পার্কিং করা বাসে আগুন

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পৃথক স্থানে পার্কিং করে রাখা দুটি স্টাফ বাসে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের ৩৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০/৩০ জনের বিরুদ্ধে ফতুল্লা থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে ফতুল্লা থানায় শাহাদাত হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

ফতুল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহাবুব আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার আসামিরা হলেন— জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম নাজমুল হাসান লিটন, যুবলীগ কর্মী মো. রুবেল, ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাবেক সভাপতি কাজী সাঈদ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নাজমুল হোসেন সবুজ, ফতুল্লা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অহিদুর গাজী, ফতুল্লা থানা যুবলীগের প্রচার ও প্রকাশ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম, ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল সালাম ওরফে ডিস সালাম, কাশীপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ সাইদুর রহমান শ্রাবণ, ফতুল্লা থানা যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক লিপু, দপ্তর সম্পাদক ইদ্রিস, ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম জুয়েল, যুবলীগ কর্মী রফেদ আলী, মামুন, সবুজ ও সুমনসহ অন্যরা।

এছাড়া এজাহারে এনামুল, মঞ্জুরুল হক সাথী, মেহেবুব হক টগর, সোহেল, রবিউল ইসলাম রাসেল, মো. অহিদ, আরাফাত খান, ইমরান পাপ্পু, আশরাফ, আমির ওরফে মুরগি আমির, অনিল, মনির মেম্বার, জাকির মেম্বার, আজমত আলী, নাহিদ হাসান সবুজ, মীর হোসেন মীরু, নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি এস এম শামীম, জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি ইমরান হোসেন শুভ এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা শেখ রাসেল পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক সজল বিন ইবুর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে বলা হয়, গত ২০ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে ফতুল্লা থানার শিবু মার্কেট এলাকার নাদিয়া প্লাজার সামনে পাকা সড়কে পার্কিং করে রাখা একটি স্টাফ বাসে অগ্নিসংযোগ করা হয়। একই দিন ভোর আনুমানিক ৬টা ৩০ মিনিটে একমি বিল্ডিংয়ের পাশে সুরুজের গ্যারেজের সামনে পার্কিং করে রাখা আরেকটি বাসেও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদী মো. শাহাদাত হোসাইন (৩১) ফতুল্লার সন্তাপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে নিজের মালিকানাধীন স্টাফ বাস দিয়ে পঞ্চবটি থেকে সিদ্ধিরগঞ্জের চৌধুরীবাড়ী রোডে যাত্রী পরিবহন করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তার বাসটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর সিলেট-ব-১১-০০১২। প্রতিদিনের মতো ২০ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ১০ মিনিটের দিকে চালক মো. ইউসুফ বাসটি শিবু মার্কেটের নাদিয়া প্লাজার সামনে সড়কের ওপর পার্কিং করে দরজায় তালা দিয়ে বাসায় চলে যান। রাত আনুমানিক ২টার দিকে পাশের একটি জুট গোডাউনের দারোয়ান মো. হাসান মোবাইল ফোনে শাহাদাতকে বাসে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের খবর দেন। পরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান, তার আসার আগেই বাসের চালক ও তার পরিবারের সদস্যরা স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছেন। আগুনে বাসের সবগুলো সিট ও ভেতরে থাকা গাড়ির কাগজপত্র পুড়ে যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, একই রাতে মালিক সমিতির সভাপতি রওশন আলী সরকারের মালিকানাধীন ‘আনন্দ বাস’ নামে একটি বাসও শিবু মার্কেটের একমি বিল্ডিংয়ের পাশে সুরুজের গ্যারেজের সামনে পার্কিং করে রাখা হয়েছিল। বাসটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৪০৩৯। এজাহারে বলা হয়েছে, ভোর আনুমানিক ৬টা ৩০ মিনিটের দিকে ওই বাসেও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এতে বাসটির তিনটি সিট পুড়ে যায়।

খবর পেয়ে ফতুল্লা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত দুটি বাস আলামতসহ জব্দ করে। পরে বাস দুটি বাদী ও মালিক সমিতির সভাপতি রওশন আলী সরকারের জিম্মায় দেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

এজাহারে বাদী অভিযোগ করেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, নাম উল্লেখ করা আসামিরাসহ অজ্ঞাতনামা ২০/৩০ জন নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং দুষ্কৃতিকারী সংঘবদ্ধভাবে ঘটনাস্থলে আসে। তাদের হাতে লাঠিসোঁটা, দেশীয় অস্ত্র, পেট্রোল বোমা, ককটেল ও বিস্ফোরক দ্রব্য ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, তারা পার্কিং করে রাখা বাসে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করলে আগুন ধরে যায়। পরে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিনিধি/টিবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর