কক্সবাজারের চকরিয়ায় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দ করেছে পুলিশ। এ সময় ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, গ্রেফতার ব্যক্তিরা অস্ত্র ও গুলি তৈরি, কেনাবেচা এবং বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতির সঙ্গে জড়িত।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত মধ্যরাতে উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের পশ্চিম ছনুয়াপাড়া ও হালকাচাঁপাড়া এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন রাজিব প্রকাশ শুটার রাজিব (২৬), নমি উদ্দিন প্রকাশ নমি ডাকাত (৪০), জসিম উদ্দিন প্রকাশ জসু ডাকাত (২৬), সাগর রানা প্রকাশ শুটার সাগর (২০), জহুরা বেগম (৪৫) ও শহর বানু (৫৫)।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল আজিজ।
তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বদরখালী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম ছনুয়াপাড়া এলাকায় একটি বসতঘরে অভিযান চালানো হয়। ঘটনাস্থলে যাওয়ার রাস্তা দুর্গম হওয়ায় গাড়ি রেখে প্রায় দুই কিলোমিটার হেঁটে রাতের অন্ধকারে বাড়িটি ঘেরাও করে পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন পালানোর চেষ্টা করলে ছয়জনকে আটক করা হয়। এ সময় কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি পালিয়ে যায়।
অভিযানে একটি দেশীয় তৈরি দুইনালা রাইফেল, একটি একনালা রাইফেল, একটি দেশীয় শর্টগান, ৫০ রাউন্ড রাইফেলের গুলি, ৫৫ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, দুটি তাজা শর্টগানের কার্তুজ, দুটি কার্তুজের খোসা, একটি ক্লিনিং রড, অস্ত্র ও গুলি তৈরির সরঞ্জাম এবং তিনটি অ্যান্ড্রয়েড ও তিনটি বাটন মুঠোফোন জব্দ করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বদরখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হালকাচাঁপাড়া এলাকায় দ্বিতীয় অভিযান চালানো হয়। সেখানে শহর বানু পালানোর চেষ্টা করলে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার বসতঘরের পেছনের পুকুর থেকে একটি সাদা প্লাস্টিকের বস্তা উদ্ধার করা হয়। বস্তার ভেতর থেকে আরও ৮২৫ রাউন্ড রাইফেলের গুলি পাওয়া যায়।

পুলিশের দাবি, গ্রেফতার ব্যক্তিরা ওই এলাকায় অস্ত্র ও গুলি তৈরি করে কেনাবেচা এবং অন্যদের কাছে ভাড়া দেওয়ার তথ্য দিয়েছেন। পাশাপাশি তারা চকরিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কে ডাকাতি এবং মাছের ঘেরসহ বিভিন্ন স্থানে ডাকাতির পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা জানিয়েছেন।
এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় সংঘবদ্ধভাবে ডাকাতির সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ডাকাতি, হত্যা ও অন্যান্য অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে বলেও দাবি পুলিশের।
চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল আজিজ বলেন, উদ্ধার করা অস্ত্র ও গোলাবারুদের বিষয়ে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রতিনিধি/এসএস




