শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

বাসযাত্রীদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় চক্রের মূলহোতা ধরা

জেলা প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ
প্রকাশিত: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১৬ পিএম

শেয়ার করুন:

বাসযাত্রীদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় চক্রের মূলহোতা ধরা
আটক জাবেদ ইকবাল ওরফে বিহারি বাদল। ছবি: ঢাকা মেইল

ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে নারায়ণগঞ্জে ফেরার পথে বাসে জিম্মি করে সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলমের স্বজনদের কাছ থেকে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায় করে একটি চক্র। পরে র‍্যাবের অভিযানে তাকে উদ্ধার এবং চক্রটির মূলহোতা জাবেদ ইকবাল ওরফে বিহারি বাদলকে আটক করা হয়েছে।

র‍্যাবের দাবি, বাসটিকে ভাসমান আস্তানা বানিয়ে যাত্রীদের জিম্মি ও লুটপাট করত চক্রটি।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টার দিকে ময়মনসিংহের দিঘারকান্দা এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে বাসটি আটক করা হয়। পরে বাসে তল্লাশি চালিয়ে ধারালো ছুরিসহ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র জব্দ করা হয়।

র‍্যাব জানায়, আটক জাবেদ ইকবাল ময়মনসিংহ নগরীর পাটগুদাম মদের ডিপো এলাকার বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ১০টির বেশি ডাকাতির মামলা রয়েছে। বাসটিকে ভাসমান আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করে যাত্রীদের জিম্মি, লুটপাট ও মুক্তিপণ আদায় করত চক্রটি। চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, অফিসের কাজ শেষে শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নারায়ণগঞ্জে ফেরার জন্য ভালুকায় মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় একটি বাস এসে তাকে তুলে নেয়। কিছুদূর যাওয়ার পর চক্রের সদস্যরা বাসে থাকা অন্য যাত্রীদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও টাকা-পয়সা কেড়ে নিয়ে তাদের রাস্তায় নামিয়ে দেন। এরপর বাসের জানালার পর্দা টেনে জাহাঙ্গীরের হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করা হয়।

জাহাঙ্গীর বলেন, প্রাণ বাঁচাতে স্বজনদের মাধ্যমে বিকাশে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা আনেন জাহাঙ্গীর। তবে টাকা পাওয়ার পরও চক্রটি তার কাছে আরও টাকা দাবি করতে থাকে।

তিনি আরও বলেন, একপর্যায়ে বাসটি নারায়ণগঞ্জের দিকে না গিয়ে আব্দুল্লাহপুর ঘুরে আবার ময়মনসিংহের দিকে রওনা হয়। এতে আতঙ্কিত হয়ে জাহাঙ্গীর বিষয়টি স্বজনদের জানান। পরে তার ছোট ভাই শাহারুল তাৎক্ষণিকভাবে র‍্যাবকে বিষয়টি জানান।

র‍্যাব-১৪-এর কোম্পানি কমান্ডার মো. সামসুজ্জামান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর মুক্তিপণের টাকা পাঠানো মুঠোফোনের অবস্থান এবং বাসটির গতিবিধি শনাক্ত করা হয়। পরে ত্রিশাল ও দিঘারকান্দা এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে বাসটির গতিরোধ করা হয়।

তিনি আরও বলেন, বাসটি আটক করার পর জাহাঙ্গীর আলমকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় চক্রের মূলহোতা জাবেদ ইকবাল বাদলকে আটক করা হলেও অন্য সদস্যরা পালিয়ে যায়। তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

র‍্যাবের দাবি, আটক বাদলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ১০টির বেশি ডাকাতির মামলা রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাসটিকে ব্যবহার করে যাত্রীদের জিম্মি ও লুটপাটের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রতিনিধি/এলএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর