নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার সাইনবোর্ড এলাকায় ডিজিএফআইয়ের সদস্য পরিচয়ে এক সিএনজি চালককে অপহরণ করে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে চক্রটির তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। এ সময় আহত অবস্থায় অপহৃত সিএনজি চালককে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন মাহাবুব আলম রায়হান (৩৬), সাদ্দাম কাজী (৩৫) ও নাসির (৩৬)। তাদের সঙ্গে থাকা আরও একজন পালিয়ে গেছেন।
অভিযানে অপহরণে ব্যবহৃত একটি কালো রঙের পাজেরো জিপ, দুটি ওয়াকিটকি, একটি হ্যান্ডকাফ, ‘ডিজিএফআই ইন্সপেক্টর’ পরিচয়ের একটি ভিজিটিং কার্ড ও একটি লাঠি জব্দ করা হয়েছে।
ঘটনার শিকার ঢাকার কদমতলী এলাকার বাসিন্দা সিএনজি চালক আলাউদ্দিন (৩৮) শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করেছেন।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে আলাউদ্দিন সাইনবোর্ড সিএনজি স্ট্যান্ডে অবস্থান করছিলেন। এ সময় একটি পুরোনো পাজেরো গাড়ি তার সামনে এসে থামে। গাড়ি থেকে তিনজন নেমে নিজেদের ডিজিএফআইয়ের সদস্য পরিচয় দেন। তাদের হাতে হ্যান্ডকাফ, ওয়াকিটকি ও লাঠি ছিল। একপর্যায়ে তারা আলাউদ্দিনকে সিএনজি থেকে নামিয়ে টেনে-হিঁচড়ে পাজেরোতে তুলে নেন।
পরে গাড়িটি বিভিন্ন সড়কে ঘুরতে থাকে এবং আলাউদ্দিনকে মারধর করে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
বিষয়টি জানতে পেরে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ ডিজিএফআইসহ প্রশাসনের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরে নিশ্চিত হয়, অপহরণকারীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় ব্যবহারকারী একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র।
এরপর ওসি মাহাবুবুর আলমের নেতৃত্বে পুলিশের একাধিক দল অভিযান শুরু করে। রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ভূইঘর এলাকায় পাসপোর্ট অফিসের পাশের সড়ক থেকে পাজেরোটি আটক করা হয়। গাড়ি থেকে তিনজনকে গ্রেফতার ও আহত অবস্থায় আলাউদ্দিনকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় একজন পালিয়ে যান।
ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহাবুবুর আলম বলেন, গ্রেফতার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন পেশার মানুষকে অপহরণ ও ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় করে আসছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
তিনি আরও জানান, গ্রেফতার মাহাবুব আলম রায়হানের কাছ থেকে একটি ওয়াকিটকি, একটি হ্যান্ডকাফ, ‘ডিজিএফআই ইন্সপেক্টর’ পরিচয়ের ভিজিটিং কার্ড ও একটি ভিভো মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। কার্ড ও সিমে একই মোবাইল নম্বর ছিল। গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সিরাজগঞ্জ, গাইবান্ধা, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
প্রতিনিধি/এসএস




