শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

তালার বিদ্যালয়ে ১৩ ছাত্রীর বাল্যবিবাহ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ

জেলা প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা
প্রকাশিত: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২৪ এএম

শেয়ার করুন:

তালার বিদ্যালয়ে ১৩ ছাত্রীর বাল্যবিবাহ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ
ছবি: ঢাকা মেইল

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ইসলামকাটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের নবম ও দশম শ্রেণির ১৩ ছাত্রীর বাল্যবিবাহের তথ্য পেয়েছে উপজেলা প্রশাসন। 

এর মধ্যে ১১ ছাত্রীর বাল্যবিবাহ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে তদন্তে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার তদন্তকালে আরও দুই ছাত্রীর বাল্যবিবাহের তথ্য পাওয়া যায়।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণার উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। 

সেখানে অভিভাবকেরা বাল্যবিবাহের বিষয়টি স্বীকার করেন। পরে শিক্ষার্থীদের আবার বিদ্যালয়ে পাঠানো এবং প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে তাদের বাবার বাড়িতে রাখার বিষয়ে পরিবারের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়।

Screenshot_2026-09-11_012402

জানা গেছে, নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদিকা সুলতানা, আশামনি, ঊর্মি, ইতি খাতুন ও সাদিয়া খাতুন এবং দশম শ্রেণির লাবিবা জামান তমা, স্মৃতি সুলতানা, নাসরিন খাতুন, ইতিমনি, মনিরা ইয়াসমিন ও জান্নাতুল ফেরদৌসের বাল্যবিবাহ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তদন্তকালে আরও দুই ছাত্রীর বাল্যবিবাহের তথ্য পাওয়া যায়।

জেলা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাকিব হোসেন বাবলা বলেন, গত ৩১ আগস্ট তিনি তালার একটি বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেন। তখন ১১ জন শিক্ষার্থীর বাল্যবিবাহ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন। পরে তাদের তথ্য সংগ্রহ করে জেলা প্রশাসক, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন বিষয়টি তদন্ত শুরু করে।

সাতক্ষীরা মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের উপপরিচালক নাজমুন নাহার বলেন, লিখিত অভিযোগের পর বিদ্যালয়টিতে তদন্ত করা হয়। পরে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে হাজির করা হয়। সেখানে তারা বাল্যবিবাহের বিষয়টি স্বীকার করেন। অভিভাবকেরা জানান, সাতক্ষীরার বাইরে থেকে একজন হুজুর ডেকে এনে এসব বিয়ে পড়ানো হয়েছে।

তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা বলেন, বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের কার্যালয়ে ডেকে পাঠানো হয়। তাদের স্বীকারোক্তির পর শিক্ষার্থীদের পুনরায় বিদ্যালয়ে পাঠানো এবং প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগ পর্যন্ত বাবার বাড়িতে রাখার বিষয়ে পরিবারের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের তদারকির জন্য একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ ধরনের ঘটনায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিনিধি/এআরএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর