বরিশাল নগরের একটি ভাড়া বাসা থেকে রুনা আক্তার (২৮) নামে এক কলেজছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে নগরের ২২ নম্বর ওয়ার্ডের জিয়া সড়কের বাইতুন নূর জামে মসজিদসংলগ্ন নতুন রাস্তা এলাকার একটি বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহত রুনা আক্তার বরিশাল সরকারি বিএম কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার স্বামী শাওন ঢাকা মহানগর পুলিশে (ডিএমপি) কর্মরত বলে জানা গেছে।
বাড়ির মালিকের স্ত্রী জানান, চলতি মাসের ১ তারিখ পুলিশে কর্মরত স্বামীর পরিচয় দিয়ে রুনা নিজেই বাসাটি ভাড়া নেন। বাসা নেওয়ার পর থেকে তার স্বামী শাওন সেখানে আসেননি। তবে ভিডিও কলের মাধ্যমে তার সঙ্গে বাড়ির মালিকের পরিবারের কথা হয়েছে। বাসা ভাড়ার সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র মোবাইল ফোনে দেওয়ার কথা থাকলেও তা এখনো দেওয়া হয়নি।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, রুনা ও শাওন পরস্পরের মামাতো-ফুফাতো ভাই-বোনের সম্পর্কের আত্মীয় ছিলেন। তাদের বিয়ে শাওনের পরিবার মেনে নেয়নি। এ কারণে পড়াশোনার সুবাদে রুনা জিয়া সড়কের ওই বাসায় একাই থাকতেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, ঘটনার আগে স্বামী শাওনের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেছিলেন রুনা। এরপর তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কী কারণে তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
রুনার মৃত্যুর খবর শাওনের মাকে জানানো হলে এরপর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে।
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম বলেন, ‘সিআইডির সদস্যরা বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছেন। ময়নাতদন্ত ও তদন্ত শেষে রুনা আক্তারের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।’
প্রতিনিধি/এসএস




