বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

গ্রেফতারের পর গৃহবধূর মৃত্যু, পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি, বরিশাল
প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪২ এএম

শেয়ার করুন:

গ্রেফতারের পর গৃহবধূর মৃত্যু, পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগ
গ্রেফতার নাদিয়া বেগম (৩৮)।

বরিশালের বাকেরগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার নাদিয়া বেগম (৩৮) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জেলহাজতে পাঠানোর প্রক্রিয়ার সময় অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের কারণে নাদিয়ার মৃত্যু হয়েছে। তবে পুলিশের দাবি, নাদিয়ার সঙ্গে থাকা ইয়াবা সেবনের কারণে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে বাকেরগঞ্জ উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের কৃষ্ণকাঠী গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে নাদিয়াকে আটক করা হয়। বাকেরগঞ্জে গত এক সপ্তাহ ধরে মাদকবিরোধী অভিযান চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় কৃষ্ণকাঠী গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

বুধবার সকালে বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল হোসেনের দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নাদিয়ার কাছ থেকে তিনটি মুঠোফোন ও মাদক বিক্রির ১৯ হাজার ৪০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তাকে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছিল।

পুলিশের দাবি, জেলহাজতে পাঠানোর প্রক্রিয়ার সময় নাদিয়া অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। বর্তমানে তার লাশ বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।

তবে নাদিয়ার স্বামী এনামুল হক মন্টু গাজী অভিযোগ করেন, ভরপাশা ইউনিয়নের কৃষ্ণকাঠী এলাকায় জমি নিয়ে পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা সেলিম রেজার সঙ্গে তাদের বিরোধ রয়েছে। এ বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের সঙ্গে যোগসাজশ করে পুলিশ তার স্ত্রীকে মাদক মামলায় ফাঁসিয়েছে। তাদের আড়াই বছরের একটি কন্যাশিশু রয়েছে বলেও জানান তিনি।

মন্টু গাজীর অভিযোগ, মঙ্গলবার রাত সাড়ে তিনটার দিকে পুলিশ তাদের বাড়িতে অভিযান চালায়। তখন নাদিয়া ছাড়া বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য ছিলেন না। পুলিশের সদস্যরা দরজা-জানালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করেন বলে তিনি দাবি করেন। তার অভিযোগ, বাড়িতে থাকা ১ লাখ ১৯ হাজার ৪০০ টাকা পুলিশ নিয়ে যায়। পরে ওই টাকার মধ্যে ১৯ হাজার ৪০০ টাকা উদ্ধারের কথা বলা হয়েছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, নাদিয়ার কাছ থেকে কোনো মাদক পাওয়া যায়নি। তাকে থানায় নিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। এরপর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং মৃত্যু হয়। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

বরিশালের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বাকেরগঞ্জ সার্কেল) মাসুম বিল্লাহ বলেন, বাকেরগঞ্জে ধারাবাহিকভাবে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে নাদিয়া বেগমকে আটক করা হয়েছিল। জেলহাজতে পাঠানোর প্রক্রিয়ার আগে তার মৃত্যু হয়।

মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ওই নারীর সঙ্গে থাকা ইয়াবা সেবনের কারণে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্ত ও চিকিৎসকের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।’

পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাসুম বিল্লাহ বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। মাদকবিরোধী অভিযান চলমান রয়েছে উল্লেখ করে তিনি মাদক নির্মূলে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর