সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

জর্দার কৌটায় ১০ বছরের সঞ্চয়, নষ্ট হয়ে যাওয়ায় দিশেহারা বিধবা মনোয়ারা

জেলা প্রতিনিধি, শেরপুর
প্রকাশিত: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৪ পিএম

শেয়ার করুন:

জর্দার কৌটায় ১০ বছরের সঞ্চয়, নষ্ট হয়ে যাওয়ায় দিশেহারা বিধবা মনোয়ারা
নষ্ট হয়ে যাওয়া টাকা নিয়ে বসে আছেন বিধবা মনোয়ারা। ছবি: ঢাকা মেইল

প্রায় এক দশক ধরে অল্প অল্প করে জমানো ২ লাখ টাকা। ভবিষ্যতের নিরাপত্তার কথা ভেবে সেই অর্থ একটি জর্দার কৌটায় সংরক্ষণ করেছিলেন শেরপুরের নালিতাবাড়ী পৌর শহরের বাসিন্দা মনোয়ারা বেগম। কিন্তু প্রয়োজনের সময় কৌটা খুলে দেখেন, ভেতরে থাকা সব নোট আর্দ্রতা ও সময়ের প্রভাবে টুকরো টুকরো হয়ে গেছে। দীর্ঘদিনের কষ্টের সঞ্চয় এক মুহূর্তেই অচল হয়ে পড়ায় এখন চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তার।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে নালিতাবাড়ী পৌর শহরের পুরাতন জেলখানা রোডসংলগ্ন এলাকায় মনোয়ারা বেগমের বাড়িতে গিয়ে তার সঙ্গে কথা হলে তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে জীবনের কঠিন বাস্তবতার কথা তুলে ধরেন।

মনোয়ারা বেগম জানান, তার স্বামী জিয়া উদ্দীন প্রায় তিন মাস আগে মারা গেছেন। জীবদ্দশায় তিনি মিষ্টি তৈরির কারিগর হিসেবে কাজ করতেন। অন্যদিকে মনোয়ারা ভোগাই নদী থেকে বালু ও পাথর সংগ্রহ করে বিক্রি করে সংসারের ব্যয় নির্বাহ করতেন। সেই আয় থেকেই অনেক কষ্টে দুই মেয়ের বিয়ে দেন তারা।

তিনি বলেন, সংসারের খরচ মিটিয়ে প্রায় ১০ বছর ধরে অল্প অল্প করে টাকা জমিয়েছিলেন। খুচরা টাকা বদলে এক হাজার টাকার নোট সংগ্রহ করে মোট ২ লাখ টাকা একটি জর্দার কৌটায় রেখে দেন। প্রায় আট মাস ধরে কৌটাটি আর খোলা হয়নি।

সম্প্রতি অর্থের প্রয়োজন হলে কৌটার মুখ খুলতে না পেরে সেটি কেটে খোলা হয়। তখন দেখা যায়, ভেতরে থাকা সব নোট নষ্ট হয়ে গেছে এবং ব্যবহার করার মতো অবস্থায় নেই।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে মনোয়ারা বেগম বলেন, এই টাকাটাই ছিল আমার শেষ ভরসা। স্বামী নেই, আগের মতো কাজও নেই। ভোগাই নদীতে এখন আর আগের মতো পাথর পাওয়া যায় না। অনেক কষ্ট করে জমানো টাকাগুলোও নষ্ট হয়ে গেল। এখন কীভাবে চলব, বুঝতে পারছি না।

স্থানীয় বাসিন্দা মিলন শেখ বলেন, মনোয়ারা ও তার স্বামী দীর্ঘদিন কঠোর পরিশ্রম করে সংসার চালিয়েছেন। স্বামীর মৃত্যুর পর এমনভাবে সঞ্চয়ের অর্থ নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।

প্রতিবেশী সাদ আল জুনায়েদ বলেন, এই অর্থ শুধু টাকা ছিল না, মনোয়ারা বেগমের ভবিষ্যৎ জীবনের একমাত্র ভরসাও ছিল। সেই সঞ্চয় নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তিনি এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।

স্থানীয়দের দাবি, অসহায় এই নারীর পাশে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ সমাজের বিত্তবান মানুষের এগিয়ে আসা প্রয়োজন, যাতে তিনি নতুন করে জীবন শুরু করার সুযোগ পান।

প্রতিনিধি/এলএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর