রোববার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

কচুরিপানা গিলে খাচ্ছে চলনবিলের সৌন্দর্য

মো. লিটন হোসেন লিমন, নাটোর
প্রকাশিত: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১১ পিএম

শেয়ার করুন:

কচুরিপানা গিলে খাচ্ছে চলনবিলের সৌন্দর্য
নাটোর চলনবিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য গিলে খাচ্ছে কচুরিপানা। ছবি- ঢাকা মেইল

চলনবিলে এখন থই থই পানি। বিলজুড়ে ভাসছে লাল-সাদা শাপলা। চারিদিকে ছড়াচ্ছে শাপলা ফুলের মিষ্টি ঘ্রাণ। শাপলা পাতায় বসেছে সাদা বগ। বর্ষার স্বচ্ছ পানিতে জীবন ফিরেছে বিলের জীববৈচিত্র্য।

এর মাঝেই জেলেরা মাছ ধরার সারঞ্জাম নিয়ে ডিঙি নৌকায় ছুটে চলেছেন বিলে। তাদের জালে ধরা পড়ছে নানা প্রজাতির মাছ। এসব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন পর্যটকরা।

কিন্তু এই সৌন্দর্যের মাঝে বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে কচুরিপানা।বিস্তীর্ণ চলনবিলে ছেয়ে গেছে কচুরিপানার আস্তরণ। বিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই যেন গিলে খাচ্ছে কচুরিপানা আস্তরণ। বদলে দিচ্ছে চলনবিলের রূপ। বিগত কয়েক বছর ধরেই বিলকে গ্রাস করছে কচুরিপানা।

নাটোর জেলার গুরুদাসপুর ও সিংড়া উপজেলার বিস্তীর্ণ বিলাঞ্চলের কয়েক হাজার হেক্টর জমির পানিতে ছেয়ে গেছে কচুরিপানা। ফলে আমন ধান, আগাম সরিষা, গম ও ইরি-বোরোসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ নিয়ে  অনিশ্চয়তায় পড়েছেন চলনবিলের কৃষকেরা।

The_beauty_of_Chalanbil_is_being_swallowed_by_the_Kachuripana_2
নাটোর চলনবিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য গিলে খাচ্ছে কচুরিপানা

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, চলনবিলে পানির উপরে ভাসছে বিস্তর্ণ এলাকা জুড়ে কচুরিপানা। ক্ষেতের পর ক্ষেত ছেয়ে গেছে কচুরিপানার আস্তরণে। নৌকায় চলাচলে কচুরিপানার বাঁধার মুখে পড়েছেন মাঝিরা। ঘুরতে আসা পর্যটকদের নৌকা আটকে যাচ্ছে কচুরিপানার স্তরে। এতে ঘণ্টা ধরে কচুরিপানায় আটকে থাকা পর্যটকদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

আরও পড়ুন: অতিথি পাখিতে ভরপুর চলনবিলের নদী-খালবিল

কৃষক ফরিদ হোসেন বলেন, শুধু কচুরিপানা পরিষ্কার করতেই হাজার হাজার টাকা খরচ হয়। কয়েক বছর ধরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কার্যকর সরকারি কোনো সহায়তা নেই। এখন টাকা দিয়েও প্রয়োজনীয় শ্রমিক পাওয়া যায় না। এতে করে মৌসুমি ফসল উৎপাদনে মারাত্মক অনিশ্চিতার পড়তে হয়।

আশরাফ হোসেন নামে এক মাঝি বলেন, বর্ষা মৌসুমে এ অঞ্চলের মানুষের চলাচলে একমাত্র ভরসা নৌকা। এ বছর কচুরিপানায় পুরো বিল ছেয়ে গেছে। কচুরিপানার স্তর ভেদ করে নৌকা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক দুর ঘুরে নৌকা নিয়ে যেতে হচ্ছে। নৌকার ফ্যান কচুরিপানায় আটকে যায়, এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হয়।

আরও পড়ুন: গুরুদাসপুরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, হুমকিতে শতাধিক বিঘা জমি

কৃষক মমিন হাজী বলেন, ‘নৌকায় সহজেই এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে যাওয়া যেত। এখন কচুরিপানার আস্তরণের কারণে চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। জমি থেকে কচুরিপানা পরিস্কারে পোহাতে হয় অনেক কষ্ট। অতিরিক্ত খরচ দিয়ে শ্রমিকের সাহায্য করতে হয় পরিস্কার।’

The_beauty_of_Chalanbil_is_being_swallowed_by_the_Kachuripana_1
নাটোর চলনবিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য গিলে খাচ্ছে কচুরিপানা

চলনবিলে ঘুরতে আসা পর্যটক আব্দুর রশিদ বলেন, ‘বগুড়া থেকে পরিবার নিয়ে চলনবিলে বেড়াতে এসেছি। তবে পুরো বিলজুড়ে কচুরিপানার স্তরে ছেয়ে গেছে। বিলের যে সৌন্দর্য তা নষ্ট হচ্ছে কচুরিপানায়। নৌকা মাঝে মাঝে  কচুরিপানায় আটকে চলাচলে ব্যাহত হচ্ছে।’

আরও পড়ুন: চলনবিলে ইকো ট্যুরিজমের বিষয়টি বিবেচনা করছে সরকার: পর্যটনমন্ত্রী

নাটোর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. হাবিবুর ইসলাম খান বলেন,  ‘চলনবিলে কচুরিপানার বিস্তার ঘটেছে। ফলে কৃষকদের অনেক ভোগান্তিতে পড়তে হয়।’

তিনি বলেন, ‘জমি থেকে কচুরিপানা অপসারণে অতিরিক্ত শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। অনেক কৃষক অর্থ সংকটে জমি অনাবাদি রেখে দেন। এতে করে উৎপাদন অনেক কমে যায়। পানি নেমে যাওযার সঙ্গে সঙ্গে কচুরিপানা সরানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’

প্রতিনিধি/এএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর