ঢাকার সাভারের পূর্ব শাহীবাগ এলাকার একটি মাদরাসার সাত বছর বয়সী এক আবাসিক শিক্ষার্থীকে দীর্ঘদিন ধরে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পাঁচ শিক্ষার্থী ও এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে সরাসরি বলাৎকারের অভিযোগে মামলা করেছেন শিশুটির বাবা। আরও চারজনের বিরুদ্ধে বলাৎকারে সহযোগিতা, অভিযুক্তদের পালিয়ে যেতে সহায়তা ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।
শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, চলতি বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ‘মারকাযুল উলুম আশ-শরইয়্যাহ মাদরাসা’র শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা শিশুটিকে বলাৎকার করেন। আবাসিক ওই শিক্ষার্থী সম্প্রতি বাড়িতে ফেরার পর মাদরাসায় যেতে অস্বীকৃতি জানালে পরিবারের সন্দেহ হয়। পরে অন্য এক শিক্ষার্থীর অভিভাবকের কাছ থেকে সেখানে শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগের কথা জানতে পারেন তার বাবা।
১৪ আগস্ট পরিবারের সদস্যদের কাছে শিশুটি বিষয়টি জানায়। এরপর অসুস্থ হয়ে পড়লে ১৮ আগস্ট তাকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে নেওয়ার পরামর্শ দেন। একই দিন তাকে সেখানে ভর্তি করা হয়। চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা আদালতে মামলার আবেদন করেন। পরে ২৬ আগস্ট সাভার মডেল থানায় মামলাটি নথিভুক্ত হয়।
মামলার পর বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পূর্ব শাহীবাগের ওই মাদরাসায় অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। তবে অভিযুক্তরা আগেই মাদরাসা ছেড়ে চলে যাওয়ায় কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।
সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আব্দুস সবুরের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল মাদরাসায় গিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে। এ সময় মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের নথিপত্রও যাচাই করা হয়। তবে অভিযুক্ত কাউকে সেখানে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ভুক্তভোগী পরিবার আদালতে যাওয়ার পর সাভার মডেল থানায় মামলাটি করা হয়। মামলার পরপরই আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে। তাদের দ্রুত গ্রেফতার করা হবে।
তবে আসামিরা গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন শিশুটির বাবা। তার অভিযোগ, বিষয়টি জানার পর তিনি মাদরাসার মুহতামিম (অধ্যক্ষ) জিয়া বিন কাশেমের কাছে বিচার দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি অভিযুক্তদের পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছেন। বিষয়টি নিয়ে চুপ থাকতে ও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মাদরাসার কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, অভিযোগের ঘটনা সত্য হলে তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। প্রকৃত অপরাধীদের যথাযথ বিচার হওয়া উচিত। তবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কোনো শিক্ষক বা শিক্ষার্থীকে যেন হয়রানি করা না হয়। মামলায় নাম থাকা শিক্ষার্থীদের প্রত্যেকের বয়স ১৩ বছর বা এর নিচে বলেও দাবি করে তারা।
মাদরাসার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও হিসাবরক্ষক লোকমান হোসেন বলেন, কিছুদিন আগে শিশুটির বাবা মাদরাসায় এসে তার ছেলের সঙ্গে খারাপ আচরণের অভিযোগ করেন। এরপর অভিযোগে নাম থাকা কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী ভয়ে মাদরাসা ছেড়ে চলে যান।
লোকমান বলেন, মাদরাসার মুহতামিম (অধ্যক্ষ) সেদিনই বিষয়টি নিয়ে বিচারের আশ্বাস দিয়েছিলেন। কেউ অন্যায় বা অপরাধ করে থাকলে তদন্ত করে তাকে শাস্তির আওতায় আনা উচিত। তবে মামলায় নাম থাকা পাঁচ শিক্ষার্থীর বয়স ও অভিযোগের বিষয়টিও খতিয়ে দেখার দাবি জানান তিনি।
প্রতিনিধি/এলএ




