রোগীর মৃত্যু নিয়ে স্বজনদের সঙ্গে সংঘর্ষের পর দুই দিন ধরে চলা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেছেন বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসন, পুলিশ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় দাবি পূরণের আশ্বাস পাওয়ার পর তারা কাজে ফেরার ঘোষণা দেন।
অন্যদিকে চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ছাত্রদলের পাঁচ নেতাকর্মীকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতারা হলেন- শহরের ১৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের আহ্বায়ক নাফিউল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক মনির হোসেন ও প্রান্ত ইসলাম, সদস্য রাকিবুল হাসান রাকিব এবং ১৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম শিহাব।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে হাসপাতালের মিলনায়তনে মতবিনিময় সভা হয়। এতে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদের প্রশাসক, চিকিৎসক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নেন।
সভায় ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। পরে কর্মবিরতি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
দুই দিন কর্মবিরতির মধ্যেও হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাসেবা চালু ছিল। তবে ব্যাহত হয় অন্যান্য সেবা। এতে দূর-দূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
এর মধ্যে বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা হাসপাতালের বহির্বিভাগের টিকিট কাউন্টার বন্ধ করে দেন। এতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ টিকিট কাউন্টার চালু করে। এরপর আবার টিকিট বিক্রি শুরু হলে স্বাভাবিক হয় বহির্বিভাগের কার্যক্রম।
মতবিনিময় সভা শেষে বিকেল সাড়ে ৩টায় হাসপাতালের উপ-পরিচালক মনজুর-ই-মোর্শেদ বলেন, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দাবিগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পাশাপাশি রোগীদের দুর্ভোগ কমাতে চিকিৎসক ও জনবল বাড়ানোর প্রক্রিয়াও চলছে।
রোগীর মৃত্যু ঘিরে সংঘর্ষ, আহত ১২
মঙ্গলবার রাতে শজিমেক হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে এক রোগীর মৃত্যু ঘিরে স্বজনদের সঙ্গে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের ১২ জন আহত হন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনার পর ইন্টার্ন চিকিৎসকরা ছয়জনকে মারধর করে আটকে রাখেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। তাদের মধ্যে পাঁচজন ছাত্রদলের নেতাকর্মী বলে জানা যায়। পরে তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়।
এর আগে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল, রোগীর মৃত্যু ঘিরে স্বজনরা চিকিৎসকদের ওপর হামলা করেন। এ ঘটনায় নিরাপত্তার দাবিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা কর্মবিরতি শুরু করেন।
হাসপাতালে চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচ নেতাকর্মীকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করেছে বগুড়া শহর ছাত্রদল।
বগুড়া শহর ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক রাতুল আহসান রিয়াদ স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের আহ্বায়ক নাফিউল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক মনির হোসেন ও প্রান্ত ইসলাম, সদস্য রাকিবুল হাসান রাকিব এবং ১৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম শিহাবকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকার কথা বলা হয়েছে।
প্রতিনিধি/এলএ




