বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে দ্বিতীয় দিনের মতো কর্মবিরতি পালন করছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বহির্বিভাগের চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে দিয়েছেন তারা। এতে দূরদূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা শত শত রোগী ভোগান্তিতে পড়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল পৌনে ১০টার দিকে বহির্বিভাগের টিকিট কাউন্টার বন্ধ করে দেন আন্দোলনরত ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরে কাউন্টার চালুর চেষ্টা করলেও চিকিৎসকদের বাধার মুখে তা সম্ভব হয়নি। তবে জরুরি বিভাগের চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে চিকিৎসাধীন এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তার স্বজনদের সঙ্গে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন। এর প্রতিবাদে ওই দিন রাত ১২টা থেকে কর্মবিরতির ঘোষণা দেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা।
বুধবার দুপুরে সংবাদ ব্রিফিং করে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা দাবি করেন, হামলায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা গুরুতর।
হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেফতার, হাসপাতালে চিকিৎসকদের নিরাপত্তাসহ চার দফা দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি ও বহির্বিভাগের সেবা বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
এদিকে, মারামারির ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ ছয়জনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় চিকিৎসক, নার্স, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাদের নিয়ে মতবিনিময় সভার উদ্যোগ নিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতির বিষয়ে শজিমেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মঞ্জুর-এ-মোর্শেদ বলেন, বহির্বিভাগে কিছুটা সমস্যা হলেও মূল চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে না। মিডলেভেল চিকিৎসক, সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধানসহ অন্যান্য চিকিৎসকেরা সেবা চালু রেখেছেন।
প্রতিনিধি/এসএস




