ঝালকাঠির রাজাপুরে গভীর রাতে বাসায় ঢুকে এক নার্সকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। একই ভবনের আরেকটি বাসার দরজাও খোলা অবস্থায় পাওয়া গেছে। তবে ওই বাসা থেকে কোনো মালামাল খোয়া গেছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ভোরে রাজাপুর শহরের আদর্শপাড়া এলাকায় ফকির কাউয়ুম হোসেনের ভবনে এ ঘটনা ঘটে।
আহত নার্স নওরীন (২৪) ওই ভবনের চতুর্থ তলার ভাড়াটিয়া। তিনি পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার উলানিয়া গ্রামের মো. মোসলেম মোল্লার মেয়ে। তার স্বামী মো. শাহিন হোসেন (২৯) স্থানীয় সোহাগ জেনারেল হাসপাতালে কর্মরত।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় নওরীনের স্বামী হাসপাতালে নাইট শিফটে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার শাশুড়িও বাসায় ছিলেন না। ফলে ওই রাতে নওরীন বাসায় একাই ছিলেন।
নওরীনের পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, গভীর রাতে রান্নাঘরের অ্যাডজাস্ট ফ্যান বসানোর জায়গার ফাঁকা অংশ দিয়ে একজন বাসায় প্রবেশ করেন। বিষয়টি টের পেয়ে নওরীন চিৎকার করে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে ওই ব্যক্তি ঘরের দরজা ভেতর থেকে আটকে দেন। পরে রান্নাঘরে থাকা সবজি কাটার চাকু দিয়ে নওরীনের মুখমণ্ডল, হাত ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে।
একপর্যায়ে তাকে একটি কক্ষে আটকে রেখে বাসা থেকে নয় আনা ওজনের স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে ওই ব্যক্তি একই পথ দিয়ে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ নওরীনের।
আহত অবস্থায় নওরীন মোবাইল ফোনে তার স্বামীকে বিষয়টি জানান। পরে তার স্বামী ৯৯৯ ফোন করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে বাড়ির মালিক ও অন্যান্য ভাড়াটিয়ার সহায়তায় দরজা ভেঙে নওরীনকে উদ্ধার করা হয়।
পরে তাকে সোহাগ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তার ডান হাতে পাঁচটি এবং ডান পায়ে তিনটি সেলাই দেন। বর্তমানে তিনি ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এদিকে একই ভবনের তৃতীয় তলায় বসবাসকারী মাদ্রাসাশিক্ষক মনোজের বাসার দরজাও খোলা অবস্থায় পাওয়া যায়। তবে ওই বাসায় কেউ প্রবেশ করেছিল কি না কিংবা কোনো মালামাল খোয়া গেছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন বিশ্বাস বলেন, ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করে গ্রেফতারের জন্য পুলিশ কাজ করছে।
প্রতিনিধি/এলএ




