শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

বাল্যবিয়ে বন্ধ করতে গিয়ে ইউএনও’র গাড়ি ঘেরাও, বরকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা

জেলা প্রতিনিধি, নওগাঁ
প্রকাশিত: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১০:২০ পিএম

শেয়ার করুন:

বাল্যবিয়ে বন্ধ করতে গিয়ে ইউএনও’র গাড়ি ঘেরাও, বরকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা
বর ও কনে। ছবি: ঢাকা মেইল

নওগাঁর আত্রাইয়ে ১২ বছরের এক স্কুলছাত্রীর বাল্যবিয়ে বন্ধ করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েছে উপজেলা প্রশাসন। এসময় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বরকে আটক করার পর ইউএনও’র গাড়ি আটকিয়ে তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন বরপক্ষের লোকজন। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার বিশা ইউনিয়নের সমাসপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সমাসপাড়া এলাকায় সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে আল-আমিন নামে এক যুবকের বিয়ের আয়োজন চলছিল। গোপন সংবাদে আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত সেখানে অভিযান চালিয়ে বিয়ে বন্ধ করে দেন। তবে আসল নাটক শুরু হয় বরকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বর আল-আমিনকে নিয়ে ইউএনও’র গাড়ি রওনা দিলে প্রায় ৩০ জন বরযাত্রী এক জোট হয়ে প্রশাসনের গাড়ির গতিরোধ করেন। তারা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর চড়াও হন এবং আটক বরকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বরযাত্রীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। পরে বর ও কনেসহ তিনজনকে আটক করা হয়।

অভিযোগ উঠেছে, সমাসপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি মুনিরুল জামান মুনিরসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষক ওই বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। শুধু তাই নয়, গ্রামবাসীদের একাংশের দাবি— মুনিরুল জামান মুনিরের ইন্ধনেই বরপক্ষ প্রশাসনের গাড়িতে হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার সাহস পায়।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মুনিরুল জামান মুনির বলেন, বিয়েটা দুই বছর আগেই হয়েছে, আজ শুধু আনুষ্ঠানিকতা ছিল। বরপক্ষের সঙ্গে আত্মীয়তা থাকায় সেখানে গিয়েছিলাম। কোনো হামলায় ইন্ধন দেওয়ার তথ্য সঠিক নয়, বরং আমি প্রশাসনকে সহায়তাই করেছি।

আত্রাই উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, গোপন সংবাদে বাল্যবিয়ে বন্ধ করে বরকে আটক করা হলে বরপক্ষের লোকজন সরকারি কাজে বাধা দেয় এবং আমাদের ওপর হামলার চেষ্টা চালায়। পরবর্তীতে অতিরিক্ত পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

তিনি জানান, বাল্যবিয়ে আয়োজন এবং প্রশাসনের ওপর হামলা ও বর ছিনতাই চেষ্টার অপরাধে মুন্নাফ, রাব্বী, ইউনূস, সজলসহ অন্তত ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার প্রক্রিয়া চলছে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং বাল্যবিয়ে রোধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

প্রতিনিধি/এলএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর