চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে অটোরিকশা ছিনতাই ও অটোরিকশা চালক রুমন আলীকে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নিখোঁজের তিন দিন পর বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে পুটিমারী বিলের একটি আখ ক্ষেত থেকে তার পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৮আগস্ট) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস এসব তথ্য জানান।
গ্রেফতাররা হলেন- শিবগঞ্জ উপজেলার সেলিমাবাদ খান পাড়া গ্রামের ওয়াসিম (অসিম), বিশ্বনাথপুর গ্রামের রফিকুল আলম, বাগদুর্গাপুর কলকলিয়া গ্রামের ওমর ফারুক।
পুলিশ জানায়, গত ২১ আগস্ট ভোর সাড়ে ৫টার দিকে রুমন নিজ বাড়ি থেকে অটোরিকশা নিয়ে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। পরদিন ২২ আগস্ট তার পালিত পিতা শিবগঞ্জ থানায় একটি জিডি করেন। তথ্যপ্রযুক্তি ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে গত ২৩ আগস্ট ওয়াসিম ওরফে অসিম এবং রফিকুল আলমকে গ্রেফতার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস জানান, আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়- তারা ছিনতাই করা অটোরিকশাটি ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দাম নির্ধারণ করে ৭০ হাজার টাকায় অটোরিকশা ক্রয়-বিক্রয়ের সাথে জড়িত অপর আসামি ওমর ফারুকের কাছে বিক্রি করে দেয়। পরবর্তীতে ওমর ফারুকের বাড়ি থেকে ছিনতাই হওয়া অটোরিকশাটি উদ্ধার এবং তাকেও আটক করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী নাজমা সুলতানা মামলা করেন। ওই মামলায় আটক ৩ আসামিকে ৩ দিনের পুলিশ রিমান্ডে নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে আসামি ওয়াসিমের দেওয়া তথ্যে ২৬ আগস্ট বিকেল পৌনে ৬টায় স্থানীয় জনগণের সহায়তায় পুটিমারী বিলের একটি আখ ক্ষেত থেকে রুমনের পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের পরনের প্যান্ট, কোমরের বেল্ট, এক পায়ের স্যান্ডেল ও সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন দেখে স্ত্রী নাজমা সুলতানা লাশটি রুমনের বলে নিশ্চিত করেন।
পুলিশ ঘটনাস্থল ও আসামিদের কাছ থেকে ছিনতাইকৃত অটোরিকশা, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কাঠের বাটযুক্ত ধারালো ছোট (হাসুয়া), একপার্ট সাদা-কালো স্যান্ডেল, রক্তের দাগযুক্ত মাটি এবং ভিকটিম ও আসামিদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে।
প্রতিনিধি/এলএ




