রংপুরে শিক্ষক গণপতিকে সপরিবারে হত্যার প্রতিবাদ, হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের দাবি এবং সারাদেশে মানুষের নিরাপত্তাহীনতার প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে নাগরিক সমাজ।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী শাসনের পতনের পর দেশে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার প্রত্যাশা তৈরি হলেও বিভিন্ন ঘটনায় সেই নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। রংপুরে শিক্ষক গণপতিকে সপরিবারে হত্যার ঘটনায় প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।
বক্তারা অভিযোগ করেন, হত্যাকাণ্ডের আলামত নষ্ট করা, ধর্ষণের আলামত গোপন এবং নিহতদের শরীরের বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য আড়াল করার মতো গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত না করে পুলিশের বক্তব্যের ওপর নির্ভর না করে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি জানান তারা।
তারা আরও বলেন, ‘জজ মিয়া নাটক’ করে কোনো হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য আড়াল করার চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না। অবিলম্বে শিক্ষক গণপতি সপরিবারে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেফতার ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর গণআন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।
এ ছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিয়ে সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সংস্কৃতিবিরোধী বক্তব্যেরও তীব্র নিন্দা জানান তারা।
অ্যাক্টিভিস্ট ওমর ফারুকের সঞ্চালনায় এবং ডা. প্রেমানন্দ দাশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন- সংস্কৃতিকর্মী জয়ন্তী, জুবায়ের আহমেদ, অ্যাক্টিভিস্ট সুফিয়ান আজাদ, ফাহিম মুন্তাসির, সংস্কৃতিকর্মী মাসুদ মুন্সী, শিক্ষার্থী রাফি আহমেদসহ অন্যরা।
কর্মসূচিতে বক্তারা শিক্ষক গণপতি হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রতিনিধি/এলএ




