বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

নেত্রকোনায় স্কুলছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ, অভিযুক্ত বিএনপি নেতা বহিষ্কার

জেলা প্রতিনিধি, নেত্রকোনা
প্রকাশিত: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১১:২১ এএম

শেয়ার করুন:

নেত্রকোনায় স্কুলছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ, অভিযুক্ত বিএনপি নেতা বহিষ্কার
প্রধান আসামি বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বকুল

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় এক স্কুলছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বকুলকে (৫০) দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) দিবাগত রাতে কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সভাপতি খোকন আহমেদ ডিলার ও সাধারণ সম্পাদক মো. মোয়াজ্জেন হোসেন খান স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তাকে বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মোয়াজ্জেন হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বকুল কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক ও ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে ছিলেন।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকার কারণে রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বকুলকে কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক ও ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদ এবং জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হলো।

মামলার অভিযোগ, স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কেন্দুয়ায় দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক কিশোরীকে বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বকুলের নেতৃত্বে দলবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। পরে এ ঘটনার ভিডিও ধারণ করে বিভিন্ন সময় তাকে ধর্ষণ করা হয়। এমনকি ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে দীর্ঘদিন অন্য লোকজনকে দিয়েও ধর্ষণ করানো হয়। একপর্যায়ে ওই স্কুলছাত্রী ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। পরে আবারও একই কাজে রাজি না হওয়ায় ওই স্কুলছাত্রীর আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। তখন স্কুলছাত্রী বিষয়টি তার পরিবারকে জানায়। পরে গত মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাতে ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে কেন্দুয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে বিএনপি নেতা বকুলকে প্রধান আসামি করে ৫ জনের নাম উল্লেখ করে আরও অজ্ঞাতনামা তিন-চার জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। ওই রাতেই মামলার ২ নম্বর আসামি আবু মিয়াকে (৩৬) গ্রেফতার করে পুলিশ। বুধবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এদিকে, মামলার পর থেকে প্রধান আসামি বিএনপি নেতা পলাতক রয়েছেন।

মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীসহ পরিবারের ভাষ্যমতে, ভুক্তভোগী স্থানীয় একটি স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী। ২০২২ সালের ২০ নভেম্বর স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে মামলার বিএনপি নেতা বকুল মিয়া তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে একটি বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয় এবং ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ধারণ করে রাখা হয়। তখন সে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। পরবর্তীতে ধারণ করা ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে ওই ছাত্রীকে বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। এতে কয়েকজন ব্যক্তি সহযোগিতা করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। ছাত্রীকে পরিবারের কাছে বিষয়টি প্রকাশ না করার জন্য হুমকি দেওয়া হতো।

এজাহারে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের মার্চ থেকে এপ্রিলের মধ্যে বকুল মিয়ার সহযোগী এক নারী ওই ছাত্রীকে একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যান এবং সেখানে অন্য লোকদের দিয়ে ধর্ষণ করানো হয়। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্তও বিভিন্ন সময়ে তাকে বিভিন্ন লোকজনকে দিয়ে ধর্ষণ করানো হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ, গত ১ আগস্ট ছাত্রী চট্টগ্রামে তার বড় ভাইয়ের কাছে গেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও পরিবারের সদস্যদের নজরে আসে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার কথা জানায়।

১৮ আগস্ট চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা পরীক্ষা করানো হলে ছাত্রী ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা যায়। ২৫ আগস্ট সে বাড়িতে ফিরে আসে। পরিবারের সদস্যরা ঘটনার বিস্তারিত জানার পর ২৬ আগস্ট কেন্দুয়া থানায় মামলা করেন।

ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রী জানান, আমাকে ভয় দেখিয়ে আমার খালু বকুল মিয়া ও আবু মিয়া বিভিন্ন বাসায় নিয়ে যেত। তখন আমি কিছু বুঝতাম না। তারা অন্য মানুষের দ্বারাও ধর্ষণ করাইছে। আমি যে বলে দিয়েছি, এই জন্য আমাকে মেরে ফেলতে পারে। আমি এইসবের কঠিন বিচার চাই।

কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন,  মামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে দ্বিতীয় অভিযুক্ত মো. আবু মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। পরে বুধবার বিকেলে তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। 

প্রতিনিধি/টিবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর