অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার পরিবারের হত্যার বিচারের দাবিতে রংপুর জিলা স্কুলের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন, সড়ক অবরোধ ও শোক মিছিল কর্মসূচি পালন করেছেন। এসময় রংপুরে পুলিশ প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে ৩ দিনের আলটিমেটাম বেঁধে দেন তারা।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে নগরীর কাচারীবাজার এলাকায় সড়ক অবরোধ করে এ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। এর আগে জিলা স্কুলের সামনে মানববন্ধন হয়। সেখান থেকে একটি শোক মিছিল বের করে নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক ঘুরে শোক মিছিলটি শেষে আবার কাচারীবাজার জিলা স্কুলের সামনে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করেন।
জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সাফিয়ার রহমান বলেন, অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার পরিবারের হত্যার ঘটনায় নাটক মঞ্চস্থ হচ্ছে। এই নাটক থেকে বেরিয়ে এসে সত্য উদঘাটন করতে হবে। আমরা সত্যকে জানতে চাই। খুনিকে আড়াল করার চেষ্টা করলে ফল ভালো হবে না। এসময় তিনি পুলিশ প্রশাসনকে খুনিকে আড়াল না করে সত্য উদঘাটন করে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদাত্ত আহ্বান জানান।
জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থী চৌধুরী মাহমুদুন নবী ডলার বলেন, এই হত্যার ঘটনায় মানুষের মনে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। ওই বাড়ির সিসিটিভির তার ও বৈদ্যুতিক তার কে কাটলো। চারজনকে হত্যা করা হলো আশেপাশের কেউ টের পেল না। এরকম অনেক বিষয় আছে, সেগুলো ভালো করে তদন্ত না করেই, দুজনকে ধরে বলে দিলো- এরা খুনের সাথে জড়িত। আমরা এসব বুঝি না। আমরা সঠিক তদন্তের মাধ্যমে সত্য জানতে চাই।
এদিকে বিকেলে নগরীর রংপুর প্রেসক্লাব চত্বরে অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার পরিবারের হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে মহানগর নাগরিক কমিটি। মানববন্ধন থেকে এই হত্যাকাণ্ডের সুষঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিচারের দাবি জানানো হয়।
এসময় বক্তব্য দেন- মহানগর নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক পলাশ কান্তি নাগ, সদস্য বিজয় প্রসাদ তপু, রংপুর মহানগর দোকান ব্যবসায়ী সমিতির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক তানবির হোসেন আশরাফী, কবি মওদুদ আহমেদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এছাড়াও বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশ হয়েছে।
রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় নিজ বাড়িতে শনিবার রাতে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) ও স্কুলছাত্র ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীর (১২) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় একই এলাকার মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামে দুজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তারা হত্যার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেয় আদালতে। মাদকসেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে দাবি পুলিশের।
প্রতিনিধি/এলএ




