শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

আদালতের নিষেধাজ্ঞার পরও জমিতে নির্মাণ, ‘পুলিশ ম্যানেজ’ করার অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি, মাদারীপুর
প্রকাশিত: ২২ আগস্ট ২০২৬, ১২:২৬ পিএম

শেয়ার করুন:

আদালতের নিষেধাজ্ঞার পরও জমিতে নির্মাণ, ‘পুলিশ ম্যানেজ’ করার অভিযোগ

মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলায় আদালতের স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমি দখল করে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানা পুলিশের কাছ থেকে সহযোগিতা না পাওয়ারও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। তার পরিবারের দাবি, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তারা আতঙ্কে রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজৈর উপজেলার খালিয়া গ্রামের মৃত সমশের খানের ছেলে কাজেল খান ওয়ারিশ সূত্রে এবং ভাই-বোন ও মায়ের কাছ থেকে ১৯৮৯ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত আটটি সাব-কবলা দলিলের মাধ্যমে মোট ৬৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ জমির মালিক হন। তার দাবি, এই জমির কিছু অংশ তিনি ভাইদের কাছ থেকেও সাব-কবলা দলিলের মাধ্যমে কিনেছেন। তবে দীর্ঘদিনেও তার দুই ভাই তাজেল খান ও ফজেল খান জমির মালিকানা বুঝিয়ে দেননি।

0b042a9c-30a2-4311-a537-92dc881f21c3

পরে ২০১৯ সালে আদালতের দ্বারস্থ হন কাজেল খান। তার দাবি, মামলা করার পর ক্ষিপ্ত হয়ে তাজেল ও ফজেল জমিতে বাড়ি নির্মাণ শুরু করেন। ওই বছর আদালত স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও তা অমান্য করে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়া হয়।

সর্বশেষ গত শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকালে কাজেল খানের মালিকানাধীন জমিতে থাকা অর্ধশত ফলজ ও বনজ গাছ কেটে একটি টিনশেড ঘর নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় পুলিশকে জানালেও তাৎক্ষণিক প্রতিকার পাননি বলে তার অভিযোগ।

আরও পড়ুন

ময়মনসিংহে ৬ বছরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কমেছে আড়াই লাখ

কাজেল খান অভিযোগ করেন, পুলিশকে ‘ম্যানেজ’ করে প্রতিপক্ষ তার জমিতে দুটি পাকা ভবন, তিনটি গোডাউন ও একটি টিনশেড ঘর নির্মাণ করেছে। জমির মালিকানা বুঝিয়ে দেওয়ার কথা বললে তাকে দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

40e4788e-eb10-4ddf-81f8-08493e6f3055

কাজেল খান বলেন, ‘আমি ওয়ারিশ সূত্রে এবং ভাই-বোন ও মায়ের কাছ থেকে আটটি সাব-কবলা দলিলের মাধ্যমে মোট ৬৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ জমির মালিক। কিন্তু আমার দুই ভাই জোর করে জমির মালিকানা বুঝিয়ে দিচ্ছেন না। আদালতে মামলা করেছি। নিষেধাজ্ঞা জারি হলেও পুলিশের কাছ থেকে সহযোগিতা পাচ্ছি না। আদালতের নির্দেশ অমান্য করে প্রতিপক্ষ পাকা ভবন ও টিনশেড ঘর নির্মাণ করেছে। আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কে আছি। ন্যায়বিচার চাই।’

অভিযোগের বিষয়ে ফজেল খান বলেন, ‘পুলিশ আমাদের টিনশেড ঘর নির্মাণ করতে নির্দেশ দিয়েছে। পুলিশের সামনে আমার ছোট ভাই তাজেল খান টিনশেড ঘর নির্মাণ করেছে। সেখানে তিন-চারজন বাইরের লোক ছিল।’

21cae8e5-466b-4627-ad5a-bf39d7f963ab

রাজৈর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফয়সাল আমিন বলেন, জরুরি কল পেয়ে পুলিশ নিয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। পরে দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলে কাগজপত্রসহ তাঁদের থানায় ডাকা হয়েছে। আপাতত নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘পুলিশ কারও জমি দখল করে দেওয়ার দায়িত্ব নেয়নি। কাউকে ঘর নির্মাণের অনুমতিও দেওয়া হয়নি। দুই পক্ষ থানায় এলে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হবে।’

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর