চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে গ্যাসের বিষক্রিয়ায় নয় শ্রমিকের মৃত্যুর পর ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো মামলা হয়নি। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ শিপব্রেকিং অ্যান্ড রিসাইক্লিং বোর্ড (বিএসবিআর) ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পৃথক তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে মামলা না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলমগীর। সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম জানান, শ্রমিক হতাহতের ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। তবে মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।
দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে শুক্রবার রাতে ৯ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া এ কমিটি গঠন করেন। এতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহাবুবুল হককে আহ্বায়ক এবং সীতাকুণ্ডের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মামুনকে সদস্যসচিব করা হয়েছে।
কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), পুলিশ সুপার, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতর, বিএসবিআর, পরিবেশ অধিদফতর এবং বিস্ফোরক পরিদফতরের প্রতিনিধিরা। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনে এক বা একাধিক সদস্যকে কো-অপ্ট করতে পারবে কমিটি।
তদন্ত কমিটির সদস্য ও সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার কারণ ও উৎস উদ্ঘাটন এবং এর পেছনে কারও ব্যক্তিগত বা পেশাগত দায়দায়িত্ব রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে সুপারিশ প্রণয়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার বিকেলে বিএসবিআর সভাপতি মো. মহসিন চৌধুরীর স্বাক্ষরিত দাফতরিক স্মারকের মাধ্যমে পাঁচ সদস্যের আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এতে বিএসবিআরের টেকনিক্যাল উপদেষ্টা ক্যাপ্টেন আনাম চৌধুরীকে আহ্বায়ক এবং সদস্যসচিব নাজমুল ইসলামকে সদস্যসচিব করা হয়েছে।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন বিএসবিআরের উপদেষ্টা নাঈম শাহ ইমরান, টেকনিক্যাল কনসালট্যান্ট ক্যাপ্টেন সিরাজুল মাওলা এবং এইচআর শিপ ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মাহাবুবুর রহমান।
এ ছাড়া দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে শিল্প মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও পৃথক একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এদিকে শনিবার সকালে দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজভাঙা কারখানা পরিদর্শন করেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুর নাসের। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিয়া এবং বিস্ফোরক অধিদফতরের পরিদর্শক এস এম সাখাওয়াত হোসেন। তারা দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সেখানে উপস্থিত বিএসবিআর সভাপতি মো. মহসিন চৌধুরীর সঙ্গে কথা বলেন।
বিএসবিআর সভাপতি মো. মহসিন চৌধুরী জানান, তাদের গঠিত তদন্ত কমিটিকে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ণয় এবং জরুরি প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
এই ঘটনায় এর আগে নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিএসবিআর।
এফএ




