চুরি করে কেউ পার পেয়ে যাবে— এমন ধারণার বদলে অপরাধীকে শাস্তির পাশাপাশি সংশোধনের সুযোগ দেওয়ার এক ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে।
সিএনজি অটোরিকশা চুরির অভিযোগে তিন যুবককে আটক করার পর তাদের কোনো ধরনের শারীরিক নির্যাতন না করে তওবা পড়ানো হয়। এরপর জনসম্মুখে ১০০ রাকাত নফল নামাজ আদায় করিয়ে ছেড়ে দেয় স্থানীয়রা।
বুধবার রাতে উপজেলার ৯ নম্বর মিরসরাই সদর ইউনিয়নের মিঠাছড়া বাজারের গাংচিল ফিলিং স্টেশন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আটক তিনজনের মধ্যে দুজনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন— উপজেলার বারইয়ারহাট পৌরসভা এলাকার বেলাল হোসেন ও মিরসরাই সদর ইউনিয়নের পূর্ব মোটবাড়িয়া এলাকার রিফাত হোসেন। অপরজনের পরিচয় জানা যায়নি।
স্থানীয়রা বলছে, তিন দিন আগে তিন সদস্যের একটি চক্র মিঠাছড়া বাজার এলাকা থেকে একটি সিএনজি অটোরিকশা চুরি করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ ওঠে এই চক্রের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর স্থানীয়রা বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে চক্রটির সদস্যদের শনাক্তের চেষ্টা করেন।
বুধবার রাতে মিঠাছড়া বাজারের গাংচিল ফিলিং স্টেশন এলাকায় সন্দেহভাজন তিনজনকে আটক করে স্থানীয়রা। তাদের কাছে চুরির বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ‘আর কখনো চুরির সঙ্গে জড়িত হবে না’— এমন অঙ্গীকার করিয়ে তাদের তওবা পড়ানো হয়। পাশাপাশি ১০০ রাকাত নফল নামাজ আদায় করিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয় যুবদল নেতা আমজাদ হোসেন বাবু বলেন, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে অপরাধীদের সংশোধনের সুযোগ দেওয়া এবং কোনো ধরনের শারীরিক নির্যাতন না করার জন্যই আমরা এ উদ্যোগ নিয়েছি। তারা ভবিষ্যতে আর চুরির সঙ্গে জড়াবে না বলে অঙ্গীকার করেছে।
স্থানীয় নুর হোসেন মিয়া বলেন, চক্রটির সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে চুরির সঙ্গে জড়িত বলে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে। বুধবার রাতে তাদের আটক করা হয়। পরে তাদের কোনো আঘাত না করে তওবা পড়ানো হয় এবং নামাজ আদায়ের সুযোগ দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
তবে স্থানীয়দের এ উদ্যোগের বিষয়ে আইনগত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, মিঠাছড়া এলাকায় চোর আটক করে নামাজ পড়ানোর বিষয়ে আমি অবগত নই। এ ঘটনায় থানায় কেউ কোনো অভিযোগও করেনি।
প্রতিনিধি/এলএ




