চাহিদা তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় ঘন ঘন লোডশেডিং-এ অতিষ্ঠ মাদারীপুরবাসী। দিনরাত মিলিয়ে ১০-১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় বেড়েছে চরম ভোগান্তি।
জানা যায়, মাদারীপুরের শহর থেকে গ্রাম সবখানেই সব সময়ই যাওয়া আসা করছে বিদ্যুৎ। সবচেয়ে দুর্ভোগ আর কষ্ট বেড়েছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহকদের। পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ না থাকায় কারখানার উৎপাদন নেমে গেছে অর্ধেকে। চলছে না ছাপাখানার চাকা। ঘুরছে না ফ্যান। অলস সময় কাটাচ্ছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। আর সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যহত হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে দুর্বিসহ কষ্ট হলেও প্রতিকার না হওয়ায় গ্রাহকরা ক্ষুব্ধ হচ্ছেন। কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে জানা নেই বিদ্যুৎ বিভাগের।

বিদ্যুৎ বিভাগ অফিস সূত্র জানিয়েছে, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড-এর (ওজোপাডিকো) প্রায় ৪০ হাজার গ্রাহকের ১৭ মেগাওয়াটের বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ১১ মেগাওয়াট। অপরদিকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ৪ লাখ ২৩ হাজার গ্রাহকের ১০৬ মেগাওয়াটের বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৫২ মেগাওয়াট। ১৪টি সাবস্টেশনের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা বিবেচনা করে লোডশেডিং ভাগ করছে কর্তৃপক্ষ।
রংয়ের ছোঁয়া প্রেসের মালিক রুবেল মাতুব্বর বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় প্রেসের কোনো কাজই করতে পারছি না। কাস্টমার এতে বিরক্ত হচ্ছে। আর্থিকভাবে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।

রড সিমেন্ট বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, দিন ও রাতে সমান তালে বিদ্যুৎ যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিতে হবে।
মাদারীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল মেনাজোর (ডিজিএম, কারিগরি) অসিত সাহা বলেন, চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ কম পাওয়া যাচ্ছে। ফলে সরবরাহও কম হচ্ছে।
ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড-এর (ওজোপাডিকো) মাদারীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, দিনরাত মিলিয়ে চাহিদার তুলনায় ৬ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ কম পাওয়া যাচ্ছে। ফলে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং হচ্ছে।
প্রতিনিধি/টিবি




