মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

বাবার লাশ বাড়িতে, পরীক্ষা কেন্দ্রে ঋতু; এসএসসিতে জিপিএ-৫

জেলা প্রতিনিধি, যশোর
প্রকাশিত: ১১ আগস্ট ২০২৬, ০১:০১ পিএম

শেয়ার করুন:

বাবার লাশ বাড়িতে, পরীক্ষা কেন্দ্রে ঋতু; এসএসসিতে জিপিএ-৫
ঋতু খাতুন।

বাবা হাসপাতালে মারা গেছেন। বাড়িতে চলছে লাশ আনার প্রস্তুতি। অথচ সেই খবর না জেনেই পরীক্ষা কেন্দ্রে বসেছিল মেয়ে। পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফিরে জানতে পারে, বাবা আর নেই। বাবাকে হারানোর সেই শোক নিয়েই বাকি পরীক্ষাগুলো শেষ করে ঋতু খাতুন। ফল প্রকাশের পর দেখা গেল, মানবিক বিভাগ থেকে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে সে।

ঋতু খাতুন যশোরের চৌগাছা উপজেলার হাকিমপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। সে উপজেলার হাকিমপুর ইউনিয়নের হাকিমপুর গ্রামের মৃত কবির হোসেন ও রেহেনা খাতুন দম্পতির দুই মেয়ের মধ্যে ছোট। বড় মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে।

ঋতুর পরিবার ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ক্যান্সারে আক্রান্ত বাবা কবির হোসেনকে বাড়িতে রেখেই এসএসসি পরীক্ষা শুরু করে ঋতু। পরীক্ষার মধ্যে বাবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

 

১০ মে ছিল ঋতুর ইতিহাস পরীক্ষা। ওই দিন ভোররাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তার বাবা কবির হোসেন। সকালেই লাশ বাড়িতে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়। তবে পরীক্ষায় যেন প্রভাব না পড়ে, সে কারণে পরিবারের পক্ষ থেকে ঋতুকে বাবার মৃত্যুর খবর জানানো হয়নি।

হাকিমপুর গ্রাম থেকে চৌগাছা শহরের ছারা পাইলট বালিকা বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রের দূরত্ব প্রায় ১০ কিলোমিটার। ঋতু যথারীতি পরীক্ষার জন্য কেন্দ্রে যায়। সে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছানোর পর বাবার লাশ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।

পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফিরে বাবার মৃত্যুর খবর জানতে পারে ঋতু। শেষবারের মতো বাবার মুখ দেখে বিদায় জানায় সে। এরপর বাবাকে হারানোর শোক নিয়েই তাকে পরবর্তী পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে হয়। সেই শোক বুকে নিয়েই বাকি পরীক্ষাগুলো শেষ করে ঋতু।

১০ আগস্ট এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর জানা যায়, ঋতু জিপিএ-৫ পেয়েছে।

ফলাফলের প্রতিক্রিয়ায় ঋতু জানায়, বাবা বেঁচে থাকলে তার ফল দেখে খুব খুশি হতেন। সে সবার কাছে বাবার জন্য দোয়া ও প্রার্থনা চেয়েছে। তবে বাবার মৃত্যুর পর নিজের উচ্চশিক্ষা নিয়ে শঙ্কার কথাও জানিয়েছে সে।

হাকিমপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাহানাজ পারভীন বলেন, ঋতু খুবই মেধাবী। সে ভালো ফল করবে-এমন প্রত্যাশা শিক্ষকদের ছিল। অসুস্থ বাবা ও পরিবারের দারিদ্র্য তার ফলাফলে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। ভবিষ্যতেও ঋতু ভালো করবে বলে আশা করেন তারা।

 

ঋতুর উচ্চশিক্ষার জন্য সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান শাহানাজ পারভীন। তিনি বলেন, ঋতুর জন্য কোনো শিক্ষা বৃত্তির ব্যবস্থা করা গেলে তার উচ্চশিক্ষার পথ সহজ হবে।

চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম বলেন, ‘এটি খুবই খুশির সংবাদ। উপজেলা প্রশাসন এই অদম্য মেধাবীর পাশে থাকবে। ঋতুর উচ্চশিক্ষার বিষয়ে সর্বোচ্চ সহায়তা করা হবে।’

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর