নোয়াখালী সোনাইমুড়ী উপজেলার দেওটি ইউনিয়নে ডাক্তার মোস্তফা হাজেরা ফাউন্ডেশনের আঞ্চলিক কার্যালয়ে ডাঃ মোস্তফা হাজেরা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মানব উন্নয়ন মিলন মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (৯ আগস্ট) সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত
শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও আবাসন নিশ্চিতের লক্ষ্যে ড. মোস্তফা-হাজেরা ফাউন্ডেশনের দীর্ঘ দিনের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ফাউন্ডেশনের সুবিধাভোগীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও তাঁদের স্বাবলম্বী করে তুলতে ‘পাঁচ শূন্য’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের কাজ করে আসছে ডাক্তার মোস্তফা হাজেরা ফাউন্ডেশন। কর্মসূচির পাঁচটি লক্ষ্য হলো—‘শূন্য নিরক্ষরতা, শূন্য চিকিৎসাবিহীন মৃত্যু, শূন্য ভিক্ষুক, শূন্য গৃহহীন ও শূন্য অদক্ষ যুবক’।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন এমএইচ গ্লোবাল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ডাক্তার মোস্তফা-হাজেরা ফাউন্ডেশনের প্রধান ক্যাপ্টেন এ কে এম গোলাম কিবরিয়া, সিআইপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন এলএমআইএস, লন্ডনের চেয়ারম্যান ডানকান থমসন।
এসময় আয়োজকরা জানান, ‘শূন্য নিরক্ষরতা’ কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি মানুষের দক্ষতা বৃদ্ধিতে কাজ চলছে। ‘শূন্য চিকিৎসাবিহীন মৃত্যু’ কর্মসূচির মাধ্যমে সবার জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
‘শূন্য ভিক্ষুক’ কর্মসূচির আওতায় ভিক্ষাবৃত্তির পরিবর্তে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য মর্যাদাপূর্ণ আয়ের সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। একইভাবে ‘শূন্য গৃহহীন’ কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবারের জন্য নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করা এবং ‘শূন্য অদক্ষ যুবক’ কর্মসূচির আওতায় তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের উপযোগী করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা ক্যাপ্টেন গোলাম কিবরিয়া বলেন, মানবিক, দক্ষ ও স্বাবলম্বী সমাজ গঠনে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপদ আবাসন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠন ও ব্যক্তিপর্যায়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমানের টেকসই পরিবর্তন আনা সম্ভব।
ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘পাঁচ শূন্য’ কর্মসূচিকে সামনে রেখে মানব উন্নয়নমূলক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা হবে। সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের জীবনমান উন্নয়ন ও স্বাবলম্বী করে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আয়োজকেরা।
ফাউন্ডেশন পরিদর্শনে আসা ব্রিটিশ নাগরিক ডানকান থমসন বলেন, আমি দীর্ঘদিন থেকে ক্যাপ্টেন গোলাম কিবরিয়ার নেতৃত্বে মোস্তফা হাজেরা ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন কর্মযজ্ঞ নিজ কার্যালয়ে এসে পরিদর্শন করার আগ্রহ থেকে বাংলাদেশ এসেছি। বিশ্বব্যাপী ক্যাপ্টেন গোলাম কিবরিয়ার নেতৃত্বে ডাক্তার মোস্তাফা হজেরা ফাউন্ডেশন যে কার্যক্রম পরিচালিত করছে তা বাংলাদেশ এবং সারা পৃথিবীর জন্য অনুকরণীয়। আমি সত্যিই অভিভূত, বাংলাদেশে এমন একটি ফাউন্ডেশন আছে জেনে আনন্দিত হয়েছি। এই দেশের মানুষের আত্মীয়তা আন্তরিকতা এবং সমাজের মানুষের প্রতি দায়িত্ব পালন করা দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি। আমি সুযোগ পেলে ফিরে আসতে চাই এই ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম পরিদর্শনে এবং এমন কাজে বারবার অংশগ্রহণ করতে চাই।
প্রতিনিধি/আরআর




