ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে একটি স্মার্টফোন আগে কে ব্যবহার করবেন, তা নিয়ে স্বামীর সঙ্গে কথা-কাটাকাটির পর কীটনাশক পান করে খোদেজা বেগম (২৬) নামের এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন।
সোমবার (১০ আগস্ট) ভোরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এর আগে, রোববার রাতে নাসিরনগর উপজেলার ধনকুড়া গ্রামের সানু সরদারের বাড়িতে ভাড়া নেওয়া মারুফ মিয়ার দুচালা ঘরে তিনি কীটনাশক পান করেন।
খোদেজা বেগম নাসিরনগর উপজেলার কুলিকুন্ডা উত্তরপাড়ার তারাজ মিয়ার মেয়ে। প্রায় নয় বছর আগে ধনকুড়া গ্রামের আক্কেল আলীর ছেলে মরম আলীর সঙ্গে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয়। মরম আলী কৃষিকাজ করেন। তাদের তানভীর (৬) নামের একটি ছেলে রয়েছে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাতে ঘরের একমাত্র স্মার্টফোনটি কে আগে ব্যবহার করবেন, তা নিয়ে খোদেজা ও তার স্বামীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে অভিমান করে স্বামীর অগোচরে তিনি কীটনাশক পান করেন। পরে পরিবারের লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে তাকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার ভোরে তার মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। সোমবার বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
নিহতের খালা সাদিয়া বেগম অভিযোগ করেন, খোদেজার মৃত্যুর পর পরিবারের লোকজন সবাই বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এক গৃহবধূ কীটনাশক পান করে মারা গেছেন। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বিষয়টি নাসিরনগর থানাকে অবহিত করা হয়েছে।
প্রতিনিধি/এসএস




