রোববার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

‘একজন মা হিসেবে মেয়ের এই কষ্ট আর দেখতে পারছি না’

আশিকুর রহমান মিঠু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৪৬ পিএম

শেয়ার করুন:

‘একজন মা হিসেবে মেয়ের এই কষ্ট আর দেখতে পারছি না’
বিরল রোগে আক্রান্ত ৯ বছর বয়সী জিদনী।

‘মেয়ের চিকিৎসার জন্য চেয়ারম্যান, মেম্বার, সমাজসেবীসহ অনেকের দ্বারে দ্বারে গিয়েছি। কিন্তু কোনো সহযোগিতা পাইনি। টাকার অভাবে চিকিৎসা বন্ধ হয়ে গেছে। মেয়েটা স্কুলেও যেতে পারে না। তার হাত দেখে অন্য শিশুরা ভয় পায়। একজন মা হিসেবে মেয়ের এই কষ্ট আর দেখতে পারছি না।’

আক্ষেপ করে কথাগুলো বলছিলেন ৯ বছর বয়সী জিদনীর মা মুন্নী আক্তার।

সহপাঠীদের সঙ্গে খেলাধুলা আর পড়াশোনায় ব্যস্ত থাকার কথা যে বয়সে, সেই বয়সে বিরল রোগে আক্রান্ত হয়ে ঘরবন্দী জিদনী। জন্মের পর থেকেই তার বাম হাত অস্বাভাবিকভাবে ফুলে বড় হয়ে গেছে। অর্থের অভাবে চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে শিশুটির।

আরও পড়ুন

‘আমি মরতে চাই না, বাঁচতে চাই’ ছেলের জন্য রুবেলের আকুতি

জিদনী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের তেরকান্দা গ্রামের ভ্যানচালক দানু মিয়ার দ্বিতীয় মেয়ে। জীবিকার তাগিদে স্ত্রী ও চার মেয়েকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মেড্ডা চকলেট ফ্যাক্টরি এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন দানু মিয়া। দিনভর ভ্যান চালিয়ে যা আয় করেন, তা দিয়েই চলে সংসার। পরিবারের খাবার ও অন্যান্য খরচ মেটাতেই হিমশিম খেতে হয় তাকে। এর মধ্যে মেয়ের ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ বহন করা তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

চিকিৎসকদের তথ্যমতে, জিদনীর শরীরে ‘নিউরোফাইব্রোমাটোসিস’ (Neurofibromatosis) অথবা ‘ভাস্কুলার ম্যালফরমেশন’ (Vascular Malformation)-এর মতো রোগের লক্ষণ রয়েছে। এসব রোগে স্নায়ু, চামড়া বা রক্তনালির টিস্যু অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে শরীরের কোনো অঙ্গ ফুলে যেতে পারে।

7aeaedd8-0f54-4d9b-86f5-45f7507c3e71

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জিদনীর বাম হাতে প্রথম অস্ত্রোপচার হয়। পরে ২০২৩ সালে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে দ্বিতীয় দফায় অস্ত্রোপচার করা হয়। দ্বিতীয় অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকেরা তিন মাস পর আবার অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিলেও অর্থের অভাবে তা আর করানো সম্ভব হয়নি।

পরিবারের দাবি, দুই দফা অস্ত্রোপচার, বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ওষুধের পেছনে ইতোমধ্যে প্রায় ৫ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। নিয়মিত ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিকের পাশাপাশি বিভিন্ন পরীক্ষা করাতে হয়েছে ঢাকার বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে।

চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, দ্রুত আরও দুই থেকে তিনটি অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। চিকিৎসার প্রাথমিক ধাপ শুরু করতেই প্রায় ৩ লাখ টাকা লাগবে বলে পরিবার জানিয়েছে। এরপর ধাপে ধাপে আরও অর্থের প্রয়োজন হবে।

আরও পড়ুন

চুল বিক্রি করে ঘরভাড়া দেওয়া রেহানার পাশে প্রতিমন্ত্রী, পেলেন ঘর ও অর্থ

জিদনীর মা মুন্নী আক্তার বলেন, আমার মেয়েটা আগে স্কুলে যেত, খেলাধুলা করত। এখন হাতের কারণে স্কুলে যেতে পারে না। অন্য শিশুরা ওর হাত দেখে ভয় পায়। একজন মা হিসেবে মেয়ের এই কষ্ট আর দেখতে পারছি না।

বিরল রোগের কারণে শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি স্বাভাবিক শৈশবও হারিয়েছে জিদনী। অন্য শিশুরা যখন স্কুলে যায়, খেলাধুলা করে, তখন তাকে বেশির ভাগ সময় ঘরেই থাকতে হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রতন কুমার ঢালী বলেন, ‘ভাস্কুলার ম্যালফরমেশন একটি বিরল রোগ। এর চিকিৎসা আমাদের হাসপাতালে সম্ভব নয়। এ রোগের চিকিৎসা ব্যয়বহুল। সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় মানুষ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে শিশুটির হাত সুস্থ করার চেষ্টা করা সম্ভব’।

জিদনীর পরিবার সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, দানশীল মানুষ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে সহযোগিতা চেয়েছে। পরিবারের আশা, আর্থিক সহায়তা পেলে বন্ধ হয়ে যাওয়া চিকিৎসা আবার শুরু করা সম্ভব হবে এবং জিদনী ফিরতে পারবে স্বাভাবিক জীবনে।

জিদনীকে সহায়তা পাঠানোর মাধ্যম

দানু মিয়া

বিকাশ/নগদ (পার্সোনাল): ০১৭২২-১৯৬২৫৫

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর