রোববার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

‘আমি মরতে চাই না, বাঁচতে চাই’ ছেলের জন্য রুবেলের আকুতি

জেলা প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা
প্রকাশিত: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৩:২০ পিএম

শেয়ার করুন:

‘আমি মরতে চাই না, বাঁচতে চাই’ ছেলের জন্য রুবেলের আকুতি
হাসানুজ্জামান রুবেল ও তার সন্তান।

‘বাবা, আমি তো আছি, তোমার কিছু হবে না’—মাত্র পাঁচ বছরের সন্তানের এই কথাই এখন হাসানুজ্জামান রুবেলের বেঁচে থাকার সবচেয়ে বড় শক্তি। সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে প্রায় আট মাস ধরে চিকিৎসাধীন ৩৫ বছর বয়সী এই যুবক এখন শারীরিক যন্ত্রণা ও আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। চিকিৎসকেরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু সেই ব্যয় বহন করার সামর্থ্য নেই পরিবারের।

চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার গোরস্থান পাড়ার একটি ভাড়া বাসায় স্ত্রী তানিয়া সুলতানা ও পাঁচ বছরের ছেলেকে নিয়ে থাকেন রুবেল। একসময় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন। নিজের উপার্জনেই চলত সংসার। ছেলেকে স্কুলে ভর্তি করে সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে দেওয়ার স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু একটি সড়ক দুর্ঘটনায় বদলে গেছে সবকিছু।

93fb70a0-b48e-411e-baad-556b1e4258e7

২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর বিকেলে যশোর থেকে প্রতিষ্ঠানের টাকা সংগ্রহ করে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন রুবেল। মোবারকগঞ্জ চিনিকলের সামনে একটি ট্রাকের সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার চাচাতো ভাই ৩৫ বছর বয়সী আরিফ হোসেন মারা যান। গুরুতর আহত হন রুবেল।

দুর্ঘটনার পর খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৬ থেকে ১৭ দিন চিকিৎসা নেন তিনি। পরে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়েছেন। পরিবারের ভাষ্য, চিকিৎসার পেছনে তাদের সঞ্চয় ও সহায়-সম্বল প্রায় শেষ হয়ে গেছে।

557a5f26-de08-4bc5-ac7c-a2af4a255cdb

রুবেলের পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় তার ঘাড়ের নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় একটি হাত প্রায় অচল হয়ে গেছে। এর সঙ্গে PLID (Prolapsed Lumbar Intervertebral Disc) সমস্যায় কোমর ও মেরুদণ্ডে তীব্র ব্যথা এবং স্নায়ুতে চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারেন না তিনি। দিনের বড় একটি সময় অসহ্য ব্যথার মধ্যে কাটে তার।

এরই মধ্যে রুবেলের হৃদ্‌যন্ত্রে পাঁচটি ব্লক ধরা পড়েছে বলেও পরিবার জানিয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দিল্লি অথবা থাইল্যান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। তবে বিদেশে চিকিৎসার ব্যয় বহন করার মতো আর্থিক সামর্থ্য পরিবারের নেই।

289a027b-cb46-4f8d-bb57-f21b3f1b909b

রুবেলের স্ত্রী তানিয়া সুলতানা বলেন, ‘আমাদের যা কিছু ছিল, সবকিছু দিয়েই এতদিন তার চিকিৎসা চালিয়েছি। এখন হাতে আর কিছুই নেই। চিকিৎসার খরচ তো দূরের কথা, সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। আমার স্বামী প্রতিদিন প্রচণ্ড কষ্ট পাচ্ছেন। সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষ যদি পাশে দাঁড়ান, তাহলে হয়ত তিনি আবার সুস্থ জীবনে ফিরতে পারবেন।’

39f21965-2a93-4b8f-a0e9-68b456f8868f

রুবেলের কষ্ট সবচেয়ে বেশি অনুভব করে তার পাঁচ বছরের সন্তান। যে বয়সে বাবার হাত ধরে স্কুলে যাওয়ার কথা, সেই বয়সে এখন অসুস্থ বাবাকে সান্ত্বনা দিতে হয় তাকে।

রুবেল বলেন, ‘আমি আর এই কষ্ট সহ্য করতে পারছি না। সারাক্ষণ ব্যথা থাকে, আমার হাতটাও ঠিকমতো কাজ করে না। দেশে চিকিৎসা করাতে গিয়ে যা কিছু ছিল সব শেষ হয়ে গেছে। এখন বিদেশে চিকিৎসার কথা বলা হচ্ছে, কিন্তু সেই টাকা আমার পরিবারের পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব নয়।’

একপর্যায়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে নিজের জীবন শেষ করার চিন্তা হয়েছিল বলেও জানান তিনি। তবে সন্তানের কথা তাকে বেঁচে থাকার সাহস জোগায়।

fd33ebc7-32db-48f1-a96e-6f5219753f7f

রুবেল বলেন, ‘আমি মরতে চাই না, আমি বাঁচতে চাই। আমার ছোট ছেলেটার জন্য বাঁচতে চাই। ও আমাকে বলে, “বাবা, আমি তো আছি, তোমার কিছু হবে না।” ওর এই কথা শুনলে মনে হয়, আমাকে বাঁচতেই হবে। আমি আবার ছেলের হাত ধরে হাঁটতে চাই, তাকে স্কুলে নিয়ে যেতে চাই।’

রুবেল এখন মৃত্যুর কথা নয়, চিকিৎসা নিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার স্বপ্ন দেখছেন। চান নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে আবার পরিবারের দায়িত্ব নিতে। চান সন্তানের হাত ধরে স্কুলে যেতে।

রুবেলের পরিবার সমাজের বিত্তবান, প্রবাসী, সামাজিক সংগঠন ও মানবিক মানুষের কাছে চিকিৎসার জন্য সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছে। তাদের আশা, মানুষের সহায়তায় রুবেল আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন।

রুবেলের চিকিৎসায় সহযোগিতা করতে

বিকাশ/নগদ: ০১৮১১-১৯২০৪৪

ব্যাংক হিসাব: ২৫১১০৫০৬৬২০৮২

ব্যাংক: ডাচ্-বাংলা ব্যাংক

অ্যাকাউন্টের নাম: হাসানুজ্জামান রুবেল

শাখা: চুয়াডাঙ্গা

SWIFT Code: DBBLBDDH

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর