অধিকার, মর্যাদা, নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষার দাবিতে সাতক্ষীরায় নানা আয়োজনে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালিত হয়েছে।
‘আদিবাসী জীবন ও ঐতিহ্যগত জ্ঞান সুরক্ষায় এগিয়ে আসুন’ এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে রোববার সকালে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে শোভাযাত্রাটি বের হয়। কর্মসূচির উদ্বোধন করেন সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ।
শোভাযাত্রা শেষে জেলা কালেক্টরেট চত্বরে সুন্দরবন আদিবাসী মুন্ডা সংস্থার (সামস) আয়োজনে আলোচনা সভা ও মুন্ডা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।
কর্মসূচির শুরুতে আদিবাসীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া সংবলিত একটি স্মারকলিপি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর দেওয়া হয়।
সামসের সভাপতি গোপাল চন্দ্র মুন্ডার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণ মুন্ডা।
সভায় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি, ভূমির অধিকার, সামাজিক নিরাপত্তা ও ঐতিহ্যগত জ্ঞান সংরক্ষণের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
গোপাল চন্দ্র মুন্ডা বলেন, আদিবাসীদের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও ভূমির অধিকার হুমকির মুখে। তাদের জীবন ও ঐতিহ্যগত জ্ঞান সুরক্ষায় রাষ্ট্রের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।
মূল প্রবন্ধে কৃষ্ণ মুন্ডা বলেন, প্রান্তিক আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের ঐতিহ্য ধরে রাখতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ বলেন, আদিবাসীদের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়ের অন্যতম অংশ। তাদের জীবনমান উন্নয়ন এবং ঐতিহ্যগত জ্ঞান সুরক্ষায় জেলা প্রশাসন পাশে থাকবে।
আলোচনা সভায় বক্তারা আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি, মাতৃভাষার চর্চা ও সংরক্ষণ, ভূমির অধিকার সুরক্ষা এবং আদিবাসী সংস্কৃতি রক্ষায় পৃথক আইন প্রণয়নের দাবি জানান। একই সঙ্গে আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠনের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
আয়োজকরা জানান, এসব দাবি নতুন নয়। আগের বছরগুলোর আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসের কর্মসূচিতেও সাংবিধানিক স্বীকৃতি, ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ, ভূমির অধিকার এবং পৃথক ভূমি কমিশন গঠনের দাবি উঠে এসেছে। ফলে বছর বদলালেও সাতক্ষীরার আদিবাসী জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের মৌলিক দাবিগুলোর বড় অংশ এখনো একই রয়েছে।
এবারের কর্মসূচিতে দীর্ঘদিনের এসব দাবির সঙ্গে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে আদিবাসী জীবন ও ঐতিহ্যগত জ্ঞান সংরক্ষণের বিষয়টি।
বক্তারা বলেন, প্রযুক্তি ও জীবনযাত্রার দ্রুত পরিবর্তনের কারণে আদিবাসীদের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা ঐতিহ্যগত জ্ঞান হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এসব সংরক্ষণে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক উদ্যোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তা, আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, অধিকারকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। পরে মুন্ডা জনগোষ্ঠীর নিজস্ব সুর ও নৃত্যের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।
প্রতিনিধি/এলএ




