শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

ছুরিকাঘাতে আহত জামায়াত কর্মীর মৃত্যু, যুবদল নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি, গাইবান্ধা
প্রকাশিত: ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০১:২৪ পিএম

শেয়ার করুন:

ছুরিকাঘাতে আহত জামায়াত কর্মীর মৃত্যু, যুবদল নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ
জামায়াত কর্মী সালাউদ্দিন।

গাইবান্ধার সাঘাটায় ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী নিহত হওয়ার ঘটনায় ছুরিকাঘাতে আহত জামায়াত কর্মী সালাউদ্দিন ৪৮ দিন পর ঢাকার কল্যাণপুরের ইবনে সিনা হাসপাতালে মারা গেছেন। তার স্বজনদের অভিযোগ, এ ঘটনায় স্থানীয় যুবদল নেতা মোখলেছুর রহমান মুকুল জড়িত।

শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে সালাউদ্দিনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন তার বাবা ও সাঘাটা উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদের সদস্য সামছুল হোদা দুদু। তিনি জানান, সকাল ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে তার ছেলে মারা যান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২১ জুন সাঘাটার কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন নিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লাহর সঙ্গে উপজেলা চত্বরে যুবদল নেতা মোখলেছুর রহমান মুকুলের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে স্থানীয় নেতাদের মধ্যস্থতায় বিষয়টি মীমাংসা হলে সবাই সেখান থেকে চলে যান।

এর প্রায় ১০ মিনিট পর উপজেলা সংলগ্ন বোনারপাড়া চৌমাথায় বোনারপাড়া-সাঘাটা সড়কের পাশে শিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী ও জামায়াত কর্মী সালাউদ্দিন অবস্থান করছিলেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, এ সময় মুকুলের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৩ জন তাদের ওপর হামলা করেন। হামলাকারীরা সালাউদ্দিনকে ছুরিকাঘাত করেন। সাইফুল্লাহ এগিয়ে এলে তাকেও ধাওয়া করে ফেলে দিয়ে গলায় ছুরিকাঘাত করা হয়।

পরে স্থানীয়রা দুজনকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাইফুল্লাহকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত সালাউদ্দিনকে প্রথমে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার কল্যাণপুরের ইবনে সিনা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ৪৮ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুন

গাইবান্ধায় ছুরিকাঘাতে ছাত্রশিবির নেতা নিহত

সাঘাটা উপজেলা যুব জামায়াতের সেক্রেটারি আশিকুর রহমান আপেল বলেন, ‘এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। জামায়াত-শিবিরকে কোনঠাসা করতেই পরিকল্পিতভাবে সাইফুল্লাহ ও সালাউদ্দিনকে হত্যা করা হয়েছে। প্রশাসন সব জানার পরও আসামিদের ধরছে না।’

সাঘাটা উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাজেদুর রহমান সাদা বলেন, ‘দিনদুপুরে এমন হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পরও চাকু পলাশ নামে একজন এখনো এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। মুকুলের বাবাও মানুষকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। প্রশাসন নীরব কেন?’

এ ঘটনায় নিহত শিবির নেতা সাইফুল্লাহর বাবা হাবিবুর রহমান ২২ জুন সাঘাটা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৪ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়।

ঘটনার পর দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে জেলা যুবদলের পক্ষ থেকে মোখলেছুর রহমান মুকুলকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ বহিষ্কার করা হয়।

সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম বলেন, ‘সাইফুল্লাহ বারী হত্যা মামলায় প্রধান আসামি মোখলেছুর রহমান মুকুলসহ এ পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

সালাউদ্দিনের মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে কোনো মামলা বা আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি।

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর