বরগুনায় দুই ভাইয়ের পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে এক ভাইয়ের পরিবারের সদস্যদের হামলায় আরেক ভাইয়ের মেয়ের জামাই মো. ফোরকান (৩০) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ৫ জন আহত হয়েছেন। বর্তমানে তারা বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
বুধবার (৫ আগস্ট) রাতে বরগুনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাহাদাৎ মো. হাচনাইন পারভেজ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে একইদিন সকালে বরগুনা সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের পোটকাখালী নামক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ফোরকান বরগুনা সদর উপজেলার গৌরীচন্না ইউনিয়নের বেতবুনিয়া এলাকার শানু হাওলাদারের ছেলে।
নিহত ফোরকানের স্বজন সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ মাস আগে পোটকাখালী এলাকার বাসিন্দা মো. শহিদুল ইসলাম মোল্লার এক ছাগল অন্য ভাইয়ের জমিতে যাওয়াকে কেন্দ্র করে ভাই জুয়েল মোল্লা ও নাসির মোল্লার সঙ্গে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এ ঘটনায় তাদের নিজেদের মধ্যে বেশ কয়েকবার হামলার ঘটনাও ঘটে। এছাড়াও উভয় পক্ষই বিভিন্ন অভিযোগে থানায় একাধিক মামলাও দায়ের করেন। সবশেষ গত তিনদিন আগে আবারও ভাইদের হামলার শিকার হয়ে আহত অবস্থায় শহিদুল ইসলাম মোল্লা বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। খবর পেয়ে মেয়ের জামাই ফোরকান আহত শ্বশুরকে হাসপাতালে দেখে শ্বশুর বাড়িতে যান। পরে বুধবার সকালে ফোরকান ও তার স্ত্রীসহ ওই পরিবারের কয়েকজনকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন চাচা শ্বশুর জুয়েল মোল্লা ও নাসির মোল্লাসহ তাদের স্বজনরা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসক ফোরকানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে ফোরকানের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা প্রেরণ করা হয়। ঢাকা যাওয়ার পথেই ফোরকানের মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে বরগুনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাহাদাৎ মো. হাচনাইন পারভেজ বলেন, তাদের মধ্যে প্রতিনিয়ত ঝগড়াঝাটি এবং মারামারির ঘটনা ঘটতো। গত দুইদিন আগেও তাদের মধ্যে এমন ঘটনা ঘটেছে এবং থানায় একটি মামলাও হয়েছে। বুধবার সকালে আবারও তাদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে পুলিশ হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে তাদের মধ্যে ফোরকান নামের এক জনের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি।
প্রতিনিধি/টিবি




