সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

স্বাস্থ্য খাতের অনিয়ম বন্ধে বান্দরবানে মানববন্ধন

জেলা প্রতিনিধি, বান্দরবান
প্রকাশিত: ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৪:২১ পিএম

শেয়ার করুন:

স্বাস্থ্য খাতের অনিয়ম বন্ধে বান্দরবানে মানববন্ধন
বান্দরবানে মানববন্ধন। ছবি: ঢাকা মেইল

বান্দরবান পার্বত্য জেলার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসক-নার্সের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত, স্বাস্থ্য খাতের অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ, নতুন ভবন চালু করা এবং হামে আক্রান্তদের মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধন হয়েছে।

সোমবার সকাল ১০টায় বান্দরবান মুক্তমঞ্চের সামনে অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনের আয়োজন করে বান্দরবান পার্বত্য জেলার ছাত্র-জনতা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি অনুযায়ী জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব পার্বত্য জেলা পরিষদের ওপর ন্যস্ত হলেও দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যসেবায় নানা অব্যবস্থাপনা, চিকিৎসক ও নার্সের অনিয়মিত উপস্থিতি, চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট এবং জবাবদিহিতার অভাবে সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

বক্তাদের অভিযোগ, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা এখনও পর্যাপ্তভাবে পৌঁছায়নি। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে চিকিৎসক, নার্স ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট, অ্যাম্বুলেন্সের অভাব এবং চিকিৎসা উপকরণের স্বল্পতার কারণে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী চরম দুর্ভোগে পড়ছে। অনেক এলাকায় স্বাস্থ্যকেন্দ্র থাকলেও নিয়মিত চিকিৎসক না থাকায় স্থানীয়রা বাধ্য হয়ে কবিরাজি চিকিৎসার ওপর নির্ভর করছেন।

তারা আরও বলেন, চলতি বছরের মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত বান্দরবান জেলায় প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন হামে আক্রান্ত হয়েছেন। 

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে রুমা উপজেলায় ৯ জন এবং আলীকদম উপজেলায় ১৩ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। হামে আক্রান্ত অধিকাংশ এলাকা দুর্গম হওয়ায় সময়মতো চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রায় ১৪টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করলেও স্বাস্থ্যসেবাসহ মৌলিক নাগরিক অধিকার এখনো নিশ্চিত হয়নি। 

তারা অভিযোগ করেন, অ্যান্টিভেনমের অভাবে সাপে কাটা রোগীর মৃত্যু, গর্ভবতী নারীর চিকিৎসা সংকট, চিকিৎসকদের গাফিলতি ও অসদাচরণের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে সরকারি হাসপাতাল সম্পর্কে আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে।

এ সময় তারা ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো—
১. বান্দরবান জেলা সদর হাসপাতালসহ সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে আধুনিক ও মানসম্মত হাসপাতালে উন্নীত করতে হবে।

২. চিকিৎসক ও নার্সদের কর্মস্থলে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।

৩. জেলা ও উপজেলা হাসপাতালগুলোতে আধুনিক অ্যাম্বুলেন্স, অক্সিজেন, অ্যান্টিভেনম, প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন ও ওষুধের পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রয়োজনে নৌ-অ্যাম্বুলেন্স চালু করতে হবে।

৪. বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর কার্যক্রমে কঠোর তদারকি নিশ্চিত করে দরিদ্র মানুষের জন্য স্বল্পমূল্যে মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।

৫. জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে এমআরআই, সিসিইউ ও আইসিইউ স্থাপনে দ্রুত উদ্যোগ নিতে হবে।

৬. পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি অনুযায়ী স্বাস্থ্য বিভাগের জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

মানববন্ধন শেষে বক্তারা স্বাস্থ্যখাতের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা দূর করে দুর্গম এলাকার মানুষের জন্য সহজলভ্য ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

ছাত্রনেতা  সইনাং খুমী সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য দেন- ছাত্রনেতা উবাথোয়াই মারমা, থোয়াই অং মারমা, নেলসন ত্রিপুরা, সালাউ খেয়াং, নৈতিক জয় তঞ্চঙ্গ্যা ও জন ত্রিপুরা প্রমুখ।

প্রতিনিধি/এলএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর