গাজীপুরে যত্রতত্র ঢাকনাবিহীন ড্রেন ও খোলা ম্যানহোল যেন নগরবাসীর মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব খোলা ড্রেন ও ম্যানহোল পানিতে তলিয়ে গিয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের দাবি, দ্রুত ঢাকনাবিহীন ড্রেন ও ম্যানহোল সংস্কার করে নিরবিচ্ছিন্ন পয়ঃনিষ্কাশন নিশ্চিতের মাধ্যমে জনদুর্ভোগ লাঘবে ব্যবস্থা নিতে হবে।
এ ব্যাপারে নগর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ড্রেনেজ সংস্কারে দরপত্র হয়েছে। দ্রুত কাজ সম্পন্ন করতে ঠিকাদারদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুরের টঙ্গী থেকে চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত মহাসড়কের পাশে পয়ঃনিষ্কাশন জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন স্থানে এসব ড্রেন বছরের পর বছর খোলা থাকায় চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন পথচারীসহ সাধারণ মানুষ। নির্মাণের দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও অধিকাংশ অংশে বসানো হয়নি স্থায়ী ঢাকনা। বিশেষ করে চান্দনা চৌরাস্তা, বড়বাড়ি, টঙ্গীর বিভিন্ন স্থানে খোলা এসব ড্রেন ও ঢাকনাবিহীন ম্যানহোল যেন নগরবাসীর মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।

এলাকাবাসির অভিযোগ, চান্দনা চৌরাস্তায় চান্দনা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে থেকে ঊনিশে টাওয়ার পর্যন্ত মহাসড়কের এক পাশে পয়ঃনিষ্কাশন ড্রেনটি গত দেড় বছরের বেশি সময় ধরে ঢাকনাবিহীন আছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা নিজেদের উদ্যোগে অস্থায়ীভাবে কাঠের তক্তা ও বাঁশ দিয়ে নির্মিত ঢাকনা বসালেও মানুষের অতিরিক্ত চাপ ও ভারী যানবাহনের কারণে সেগুলো বারবার ভেঙে যাচ্ছে। এছাড়া পুরানো হওয়ায় অনেক জায়গায় বাঁশ, কাঠের তক্তা ভেঙে গেছে। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলে ড্রেন পানিতে তলিয়ে যায়। তখন খোলা ড্রেন আর রাস্তা একাকার হয়ে যাওয়ায় প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হন সাধারণ মানুষ।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের অভিযোগ, দেড় বছর আগে নির্মিত ড্রেনের ঢাকনা ভেঙে ফেলার পর সেগুলো আর সংস্কার করা হয়নি। খোলা এসব ড্রেনে ময়লা, আবর্জনা আর প্লাষ্টিক সামগ্রী ফেলায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা অপ্রতুল হয়ে পড়েছে। ফলে বৃষ্টি হলে ড্রেন ও রাস্তা একাকার হয়ে যাওয়ায় প্রায়ই দুর্ঘটনায় পড়েন সাধারণ মানুষ, ঘটে হতাহতের ঘটনা।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, ময়লা আবর্জনা জমে থাকায় খোলা এসব ড্রেন থেকে প্রচণ্ড দুর্গন্ধ বের হয়। এছাড়া মশার উপদ্রব ছাড়াও নানাভাবে আর্থিক লোকসানে পড়েছেন তারা। এছাড়া কয়েক সপ্তাহ আগেও ভোগড়া বাইপাস এলাকায় খোলা ড্রেনে পড়ে এক নারীর প্রাণহানি ঘটে। এরপরও সমস্যা সমাধানে স্থায়ী কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গেল বছরের ২৭ জুলাই টঙ্গীতে খোলা ম্যানহোলে পড়ে ফারিয়া তাসনিম জ্যোতি ও চলতি বছরের ২২ জুন খোলা ড্রেনে পড়ে নাজমা খাতুন নামে অপর এক নারীর মৃত্যু হয়। কর্তৃপক্ষের অবহেলায় দুর্ঘটনায় দুজন নারীর মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না এলাকাবাসী। তাই প্রতিদিন লাখো মানুষের চলাচলের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ফুটপাত যেন আর কোনো দুর্ঘটনা বা প্রাণহানির কারণ না হয়, এটাই এখন স্থানীয়দের প্রত্যাশা।
আরও পড়ুন
তবে এ বিষয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকার বলেন, ঢাকনাবিহীন ড্রেন ও খোলা ম্যানহোল নিয়ে সৃষ্ট সমস্যাটি তাদের নজরে রয়েছে। ইতোমধ্যে দরপত্রসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দ্রুত ড্রেনের স্থায়ী ঢাকনা নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করা হবে।
প্রতিনিধি/টিবি




