সুপারি বাগানের ফাঁকা জায়গাকে কাজে লাগিয়ে সাথি ফসল হিসেবে লটকন চাষ করে সফলতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার এক উদ্যোক্তা। সুপারি গাছের সারির ফাঁকে ফাঁকে লাগানো লটকন গাছগুলো এখন ফলের ভারে নুয়ে পড়েছে। গাছে গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে পাকা ও আধাপাকা লটকন। চলতি মৌসুমে বাম্পার ফলন হওয়ায় ভালো লাভের আশা করছেন তিনি।
উদ্যোক্তার এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগ স্থানীয় কৃষকদের মাঝেও ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষক ও দর্শনার্থীরা বাগানটি দেখতে আসছেন এবং লটকন চাষের খুঁটিনাটি বিষয়ে পরামর্শ নিচ্ছেন।
দেবীগঞ্জ উপজেলার টেপ্রিগঞ্জ ইউনিয়নের আদাবাড়ি গ্রামের উদ্যোক্তা আবু বাদশা রাসেল দীর্ঘদিন ধরে সুপারি চাষের সঙ্গে জড়িত। তার তিন বিঘা আয়তনের বাগানে রয়েছে প্রায় ৩০০টি সুপারি গাছ। কয়েক বছর আগে বাগানের অব্যবহৃত ফাঁকা জায়গা কাজে লাগাতে সেখানে লটকনের চারা রোপণ করেন তিনি। শুরুতে সীমিত পরিসরে চাষ শুরু করলেও ফলন ও বাজারমূল্য ভালো পাওয়ায় ধীরে ধীরে বাগানে লটকনের সংখ্যা বাড়ান।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, সুপারি গাছের মাঝখানে থাকা লটকন গাছগুলো ফলের ভারে নুয়ে পড়েছে। সবুজ পাতার আড়াল থেকে উঁকি দিচ্ছে হলুদাভ রঙের পাকা লটকন। কোথাও কোথাও একটি থোকায় শতাধিক ফল ঝুলতে দেখা যায়। মনোমুগ্ধকর এই বাগান এখন স্থানীয়দের কাছে আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় কৃষক আরিফুল ইসলাম বলেন, আগে সুপারি বাগানের নিচের জায়গা খালি পড়ে থাকতে দেখতাম। এখন দেখছি সেই জায়গা কাজে লাগিয়ে লটকন চাষ করে বাড়তি আয় করা সম্ভব। বিষয়টি আমাদের উৎসাহিত করছে। কৃষি বিভাগের সহযোগিতা পেলে আরও অনেক কৃষক এ চাষে আগ্রহী হবেন।
উদ্যোক্তা আবু বাদশা রাসেল জানান, অব্যবহৃত জমিকে উৎপাদনের আওতায় আনতেই তিনি লটকন চাষ শুরু করেন। গত বছর সুপারি বিক্রি করে প্রায় চার লাখ টাকা এবং লটকন বিক্রি করে প্রায় আড়াই লাখ টাকা আয় করেছেন। এ বছর ফলন আরও ভালো হওয়ায় আয় বৃদ্ধির আশা করছেন।
রাসেল বলেন, সুপারি বাগানে সাথি ফসল হিসেবে লটকন চাষে অতিরিক্ত বড় কোনো বিনিয়োগ লাগে না। পরিচর্যার খরচও কম। একই পরিচর্যায় দুই ধরনের ফসল থেকে লাভ পাওয়া যায়। কৃষকরা চাইলে এ পদ্ধতি অনুসরণ করে বাড়তি আয় করতে পারেন।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, পঞ্চগড় জেলায় বর্তমানে প্রায় ৬৬০ হেক্টর জমিতে সুপারি এবং ৪৫ হেক্টর জমিতে লটকনের আবাদ রয়েছে। জেলার আবহাওয়া ও মাটির গুণাগুণ এই দুই ফসলের জন্যই উপযোগী। বিশেষ করে সুপারি বাগানের আংশিক ছায়াযুক্ত পরিবেশে লটকনের ফলন ভালো হয়।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ সুবোধ চন্দ্র রায় বলেন, সুপারি বাগানে সাথি ফসল হিসেবে লটকন চাষ কৃষকদের জন্য লাভজনক উদ্যোগ। একই জমিতে একাধিক ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষকের আয় বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হয়। কৃষি বিভাগ প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।
সুবোধ চন্দ্র বলেন, লটকনের বাজার চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। পরিকল্পিতভাবে এ চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে আরও লাভবান হবেন।
প্রতিনিধি/ক.ম/




