কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালু হলেও আমদানি-রফতানি কার্যক্রম এখনো স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরেনি। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাতের কারণে দীর্ঘ প্রায় এক বছর বন্ধ থাকার পর বাণিজ্য শুরু হলেও বর্তমানে কার্যক্রম আগের তুলনায় মাত্র ১০ শতাংশে নেমে এসেছে। ফলে সরকারের রাজস্ব আয়ও প্রত্যাশিত মাত্রায় বাড়ছে না।
স্থলবন্দর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন থেকে সরাসরি কোনো পণ্য আসছে না। তবে রাখাইন রাজ্য থেকে সীমিত পরিসরে কাঠ আমদানি করা হচ্ছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে কোল্ড ড্রিংকস, বিস্কুটসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য রফতানি হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
সংশ্লিষ্টরা জানান, নাফ নদী এলাকায় আরাকান আর্মির সরাসরি কঠোর বাধা না থাকলেও পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। নিরাপত্তা ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তার কারণে সীমিতসংখ্যক ব্যবসায়ী বাণিজ্য কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। ফলে আগের তুলনায় আমদানি কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ব্যবসায়ীদের অধিকাংশ যোগাযোগ ও বিনিয়োগ ইয়াঙ্গুনকেন্দ্রিক হওয়ায় সংকট আরও প্রকট হয়েছে।

টেকনাফ স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এহেতাশামুল হক বাহাদুর বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর সীমান্ত বাণিজ্য চালু হলেও তা এখনো স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরেনি। বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে রফতানি কার্যক্রম কিছুটা সচল থাকলেও মিয়ানমার থেকে আমদানি খুবই সীমিত। বিশেষ করে রাখাইন রাজ্য থেকে অল্প পরিমাণ কাঠ আমদানি হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি ও চলমান অনিশ্চয়তার কারণে অনেক ব্যবসায়ী এখনো পুরোপুরি ব্যবসায় ফিরতে পারেননি। এছাড়া বন্দরসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের বিপুল পরিমাণ অর্থ এখনো মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুনে আটকে রয়েছে। আগে অধিকাংশ আমদানি পণ্য ইয়াঙ্গুন থেকে এলেও বর্তমানে সীমিত আকারে যে বাণিজ্য হচ্ছে, তা মূলত রাখাইন রাজ্যকেন্দ্রিক।
টেকনাফ স্থলবন্দরের ব্যবস্থাপক জসিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, নতুন করে সীমান্ত বাণিজ্য চালু হওয়ার পর গত দুই মাস ধরে বন্দরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে আগের তুলনায় বাণিজ্যিক কার্যক্রম অনেক কমে গেছে, যা প্রায় ১০ শতাংশে নেমে এসেছে।

তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জানা গেছে, আরাকান আর্মির বাধা এখনো পুরোপুরি কাটেনি। এরপরও ছোট ছোট ট্রলারের মাধ্যমে মিয়ানমার থেকে কাঠ আমদানি এবং বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন পণ্য রফতানি করা হচ্ছে। আগে বড় ট্রলারভর্তি মালামাল পরিবহন হলেও বর্তমানে ছোট ট্রলারের মাধ্যমে সীমিত পরিসরে বাণিজ্য চলছে। পরিস্থিতির উন্নতি হলে আমদানি-রফতানির পরিমাণ আরও বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এদিকে টেকনাফ স্থলবন্দরের কাস্টমস কর্মকর্তা মাহাবুব রহমান জানান, ২০২৬ সালের মে মাসে টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে রফতানি আয় হয়েছে ৩ লাখ ১০ হাজার ৮১২ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ কোটি ৮১ লাখ টাকা।
তিনি বলেন, চলতি বছরের জুন মাসের ১ থেকে ১৫ তারিখ পর্যন্ত রফতানি আয় হয়েছে ২ লাখ ৭০ হাজার ২৪ দশমিক ৪০ মার্কিন ডলার, যার মূল্য বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ কোটি ৩১ লাখ ৭২ হাজার টাকা। একই সময়ে আমদানি খাত থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৮২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
কাস্টমস কর্মকর্তার মতে, বর্তমানে টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে সীমান্ত বাণিজ্যে আমদানির তুলনায় রফতানি আয় বেশি হচ্ছে। তবে সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি হলে সীমান্ত বাণিজ্য আবারও স্বাভাবিক গতিতে ফিরবে বলে সংশ্লিষ্টদের আশা।
প্রতিনিধি/এমআই




