শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ঢাকা

ভেকু দিয়ে মাটি কেটে বিক্রি, বিএনপি নেতাসহ ২ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

জেলা প্রতিনিধি, শরীয়তপুর
প্রকাশিত: ১৭ জুন ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম

শেয়ার করুন:

ভেকু দিয়ে মাটি কেটে বিক্রি, বিএনপি নেতাসহ ২ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় ভেকু (এস্কেভেটর) দিয়ে উর্বর কৃষিজমির মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগে অভিযান চালিয়ে একজনকে কারাদণ্ড এবং বিএনপির এক নেতাকে অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই ঘটনায় পলাতক আরও এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৬ জুন) রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের উত্তর সৈয়দবস্তা গ্রামে ডামুড্যা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচালিত মোবাইল কোর্টে এ দণ্ড দেওয়া হয়।


বিজ্ঞাপন


ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় এস্কেভেটরের মাধ্যমে কৃষিজমির উর্বর মাটি কেটে অন্যত্র বিক্রি করা হচ্ছিল। এতে একদিকে কৃষিজমির উৎপাদনক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল, অন্যদিকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) নির্মিত গ্রামীণ সড়কেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসন ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়।

অভিযানে কৃষিজমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার দায়ে শফিক মাদবরকে ৪ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই ঘটনায় ভেকু সরবরাহের দায় স্বীকার করায় কনেশ্বর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি সদস্য ইব্রাহিম মেম্বারকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে তাকে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

অভিযানের সময় শফিক মাদবরের বিরুদ্ধে কৃষিজমি বিনষ্ট এবং ইব্রাহিম মেম্বারের বিরুদ্ধে মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত এস্কেভেটর সরবরাহের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। পরে তারা উভয়েই অভিযোগ স্বীকার করলে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ১৫(১) ধারায় তাৎক্ষণিকভাবে শাস্তি দেওয়া হয়।

এদিকে, একই মামলার আরেক অভিযুক্ত সোহেল বেপারীকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি। তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের জন্য ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন ডামুড্যা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাহিদুর রহমান। এ সময় ডামুড্যা থানার একজন পুলিশ কর্মকর্তা প্রসিকিউশন উপস্থাপন করেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জাহিদুর রহমান বলেন, উর্বর কৃষিজমির মাটি কেটে বিক্রি করা শুধু আইনবিরোধী নয়, এটি খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিবেশের জন্যও হুমকি। বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ এবং ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ অনুযায়ী এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কৃষিজমি রক্ষা এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

প্রতিনিধি/টিবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর