শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ঢাকা

রাজবাড়ীতে অবাধে কৃষি জমি থেকে মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি

জেলা প্রতিনিধি, রাজবাড়ী
প্রকাশিত: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৩৩ এএম

শেয়ার করুন:

রাজবাড়ীতে অবাধে কৃষি জমি থেকে মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি
কৃষি জমি থেকে মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি

রাজবাড়ীতে অবাধে কৃষি জমি থেকে অবৈধভাবে ভেকু দিয়ে মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে। এতে জমির ওপরের অংশ অর্থাৎ টপ সয়েল ইটভাটায় যাওয়ায় ঊর্বরতা হারানোসহ কমছে ফসলি জমি। ফলে ভবিষ্যতে দেশে খাদ্য সংকট দেখা দিবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অপরদিকে, দিন-রাত মাটিবাহী ড্রাম্প ট্রাক চলাচল করায় গ্রামের রাস্তাঘাট শুধু ক্ষতিগ্রস্তই হচ্ছে না এসব ট্রাকের নিচে পড়ে অনেকের প্রাণহানির ঘটনাও ঘটলেও রহস্যজনকভাবে নীরব প্রশাসন।


বিজ্ঞাপন


সরেজমিন দেখা গেছে, রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার মদাপুর ইউনিয়নের দত্তপাড়া মৌজার ১৫৭ নম্বর দাগের ১ একর ১৫ শতাংশ কৃষি জমিতে চলতি মৌসুমে ফুল কপির চাষ করেছিলেন জমির মালিক রঞ্জু মোল্লা। পাশের জমিতে পেঁয়াজ ও রসুনসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ করছেন অন্য চাষিরা। কিন্তু চলতি জানুয়ারি মাস থেকে বেশি লাভের আশায় রঞ্জু মোল্লা তার ওই জমির মাটি প্রভাবশালীদের কাছে বিক্রি করে দেন। পরবর্তীতে কৌশলগতভাবে ওই জমির চারপাশে চালা বেধে ভেকু দিয়ে মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে ইটভাটায়। দুইটি ভেকু দিয়ে প্রতিদিন একশ থেকে দেড়শ ট্রাক মাটি যাচ্ছে ইট ভাটায়। এতে ওই এলাকার প্রায় দুই কিলোমিটার গ্রামীণ পাকা রাস্তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি ধুলাবালিতে অতিষ্ট গ্রামবাসী। তবে মজার ব্যাপার হলো, রঞ্জু মোল্লা ওই জমি পুকুর কাটার জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ওই চক্রটির মাধ্যমে অনুমোদন করিয়েছেন। ওই অনুমোদনে গুরুত্বপূর্ণ যেসব শর্তাবলী দেওয়া হয়েছে তার কোনটাই মানা হচ্ছে না।

বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা ওই জমি থেকে মাটির কাটা এবং নষ্ট হয়ে যাওয়া রাস্তাঘাটের ভিডিও চিত্র জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছে দেওয়ার পরও তারা নাকি ওই মাটি ইটভাটায় বিক্রি হচ্ছে এর কোনো প্রমাণ পাচ্ছেন না। এজন্য তারা কোনো ব্যবস্থাও নিচ্ছেন না। এ চিত্র শুধু কালুখালী উপজেলার দত্তপাড়ায় নয়, রাজবাড়ী সদরসহ অন্যান্য উপজেলাতেও একইভাবে মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, মাটিবহনকারী ট্রাক দিনভর চলাচল করায় রাস্তা দিয়ে ধুলোবালুর সৃষ্টি হয়। যার কারণে রাস্তা দিয়ে চলাফেরা কষ্টসাধ্য হয়ে যায়। রাস্তার আশেপাশের বাড়িঘরে খাবার দাবার ও আসবাবপত্রে ধুলোতে ভরে যায়। মাটিকাটা চক্রটি প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলার সাহস পায় না।

কালুখালী উপজেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মেজবাহ উদ্দিন জানান, সরেজমিনে এসিল্যান্ডকে পাঠিয়ে তদন্ত করা হয়েছে। কিন্তু ইটভাটায় মাটি বিক্রির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ওইখানকার মাটি আশেপাশের কবরস্থানে ও বিভিন্ন মানুষ তাদের বাড়িতে নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। মাটি বহনকারী ট্রাকের কারণে নষ্ট হয়ে যাওয়া রাস্তার জন্য জমির মালিকের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ নেওয়া হবে। আপনাদের কাছে যদি ওই মাটি ইটভাটায় বিক্রি করার প্রমাণ থাকে তাহলে দেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিনিধি/টিবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর