ফেনীতে ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র মাহবুবুল হাসান মাসুম হত্যা মামলায় আত্মগোপনে থাকা আসামি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীসহ ১৭৮ জনকে আদালতে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) জাতীয় দৈনিক বনিকবার্তায় ফেনীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ ছালামাত উল্লাহ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আসামিদেরকে সংশ্লিষ্ট আদালতে এই আদেশ জারির পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলো। হাজিরে ব্যর্থ হলে তাদের অনুপস্থিতিতে বিচার অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচিতে ফেনীর মহিপালে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের গুলিতে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আসামি করে মামলা হয়। মামলায় দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ ১৬২ জনের নাম উল্লেখ, আরও ৪০০-৫০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর রাতে মহিপালে হত্যাকাণ্ডে নিহত শিক্ষার্থী মাহবুবুল হাসান মাসুমের (২৫) ভাই মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান ফেনী মডেল থানায় এ মামলা করেন। নিহত মাসুম সোনাগাজী উপজেলার চর চান্দিয়া এলাকার নোমান হাসানের ছেলে। তিনি ছাগলনাইয়া আবদুল হক চৌধুরী ডিগ্রি কলেজ থেকে অনার্স চতুর্থ বর্ষের ফলপ্রার্থী ছিলেন।
মহিপালে মাসুম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফেনী মডেল থানার এসআই আলমগীর হোসেন ২২১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০২৬ সালের ১৪ জানুয়ারি ফেনীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সদর আমলি আদালতের বিচারক মোহাম্মদ হাসান এই অভিযোগপত্র আমলে নেন। একইসঙ্গে শেখ হাসিনাসহ ১৭১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
এ মামলায় উল্লেখযোগ্য অন্য আসামিরা হলেন- ফেনী সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শুসেন চন্দ্র শীল, ফেনী পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী, ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গুলি করতে প্ররোচনা, উসকানি ও নির্দেশনার অভিযোগে তাদের আসামি করা হয়েছে।
মামলায় আসামিদের মধ্যে আরও আছেন - দাগনভূঞা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা যুবলীগের সভাপতি দিদারুল কবির রতন, পরশুরাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার সাবেক মেয়র নিজাম উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী সাজেল, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার সাবেক মেয়র রফিকুল ইসলাম খোকন, ছাগলনাইয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. মোস্তফা, সোনাগাজী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপটন, যুবলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম পিটু, জিয়া উদ্দিন বাবলু, আওয়ামী লীগ নেতা জালাল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী পাপ্পু প্রমুখ।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ মামলায় ৫১ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং কয়েকজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে পরবর্তীতে চার্জশিটভুক্ত কোনো কোনো আসামির জামিন পাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে, যা নিয়ে শহীদ পরিবার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল।
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট মহিপালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলনে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের গুলিবর্ষণে ছাগলনাইয়ার আবদুল হক চৌধুরী ডিগ্রি কলেজের ছাত্র মাহবুবুল আলম মাসুমের মাথা, বুকে ও পিঠে গুলি লাগে। পরে তাকে চট্টগ্রামের পার্কভিউ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৭ আগস্ট তার অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ৯ জন নিহত হয়।
প্রতিনিধি/ক.ম/




