শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ঢাকা

কুমিল্লা ইপিজেডের রাসায়নিক বর্জ্য খালে ফেলা যাবে না: মনিরুল

জেলা প্রতিনিধি, কুমিল্লা
প্রকাশিত: ০৬ জুন ২০২৬, ০৫:৪৬ পিএম

শেয়ার করুন:

কুমিল্লা ইপিজেডের রাসায়নিক বর্জ্য প্রাকৃতিক খালে ফেলা যাবে না: মনিরুল
কুমিল্লা ইপিজেডের বেপজা কর্মকর্তাদের সঙ্গে মনিরুল হক চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী বলেছেন, কুমিল্লা ইপিজেডের কোনো ধরনের রাসায়নিক বর্জ্য পরিশোধন ছাড়া প্রাকৃতিক খালে ফেলা যাবে না। বর্জ্য অবশ্যই শোধনাগারে পরিশোধনের পর নির্গমন করতে হবে। পরিবেশ ও জনস্বার্থ বিবেচনায় এ বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

শনিবার (৬ জুন) বেলা ১১টায় কুমিল্লা ইপিজেডের বেপজা কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। সভাটি বেপজার সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।


বিজ্ঞাপন


বেপজার নির্বাহী পরিচালক প্রকৌশলী শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক (কমার্শিয়াল) হাসানুজ্জামান, অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক (আইআর) ফেরদৌস, নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মিজানুর রহমান এবং সহকারী প্রকৌশলী সফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

সভায় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, কুমিল্লা ইপিজেড দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এখানে বিদেশি বিনিয়োগ ক্রমাগত বাড়ছে এবং রপ্তানির লক্ষ্যও অতিক্রম করছে—এটি অত্যন্ত ইতিবাচক দিক। এসব অর্জনের জন্য তিনি বেপজা কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।

তবে তিনি পরিবেশ দূষণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ইপিজেড থেকে নির্গত বিষাক্ত রাসায়নিক বর্জ্য সিটি করপোরেশনের প্রাকৃতিক খালে মিশে যাচ্ছে, যা জীববৈচিত্র্য ও মানবস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করছে। এ বর্জ্য খালে মিশে আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় দূষণ ছড়িয়ে পড়ছে এবং কৃষিজমির উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এতে স্থানীয় কৃষকরা দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, পরিবেশ রক্ষায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। ইপিজেডের সব ধরনের তরল বর্জ্য বাধ্যতামূলকভাবে ইটিপিতে পরিশোধন করে তারপরই নির্গমন করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই অপরিশোধিত বর্জ্য খালে ফেলার সুযোগ নেই।


বিজ্ঞাপন


সভায় তিনি কুমিল্লা ইপিজেডের সম্ভাবনা ও সম্প্রসারণ নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ দিন দিন বাড়ছে, তাই ইপিজেড সম্প্রসারণ এখন সময়ের দাবি। বর্তমান ইপিজেডের দক্ষিণাংশে পর্যাপ্ত জমি রয়েছে, যা ব্যবহার করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা সম্ভব। পাশাপাশি গোমতী নদীর উত্তরে নতুন একটি ইপিজেড স্থাপনের সম্ভাবনাও রয়েছে বলে তিনি মত দেন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করে শিল্পায়নের এই অগ্রযাত্রা আরও গতিশীল হবে এবং কুমিল্লা ইপিজেড ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতিতে আরও বড় ভূমিকা রাখবে।

প্রতিনিধি/এআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর